‘আলী হাসান নদভীর চিঠি, মরুর সজীবতা’

0

মুহাম্মাদ আইয়ুব ।। 

‘হে মুসলিম সম্প্রদায়! তোমরা কি শুনতে পাচ্ছ? পাশ্চাত্যের শিক্ষালয়, রিসার্চ সেন্টার আর জ্ঞান বিজ্ঞানের কেন্দ্রগুলো থেকে অনবরত এক আওয়াজ আমাদের সম্বোধন করে যাচ্ছে, কিন্তু পরিতাপের বিষয় হল কেউ এদিকে মোটেও ভ্রুক্ষেপ করছে না, কারো রক্তে আজ জোশ আসে না! কারো আত্মমর্যাদাবোধ আর জেগে উঠে না! তারা সম্বোধন করে বলছে, হে মুসলমান! হে আমাদের গোলাম! শোন! তোমাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ অতীত হয়ে গেছে।

তোমাদের জ্ঞান বিজ্ঞানের কূপ শুকিয়ে গেছে এবং তোমাদের নেতৃত্বের সূর্য ডুবে গেছে। এখন তোমাদের রাষ্ট্র আর রাজ্য পরিচালনার সাথে আছে কোন সম্পর্ক? তোমাদের বাহু কাপুরুষ হয়ে গেছে। তরবারিতে মরীচিকা পড়েছে। এখন আমরা তোমাদের প্রভু আর তোমরা সবাই আমাদের গোলাম।

দেখো! আমরা কিভাবে তোমাদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত গোলামীর ছাঁচে ফেলেছি। আজ আমাদের পোষাক পরে, আমাদের ভাষা শিখে, আমাদের পথ ও পদ্ধতি অবলম্বন করে তোমাদের মস্তক গৌরবে উঁচু হয়! তোমাদের নিষ্পাপ ছোট ছোট শিশুরা যখন আমাদের জাতীয় নিশান টাই পরে স্কুলে যায় তখন ঐ পোষাক দেখে তোমাদের অন্তর কত খুশি হয়?

আমরা নির্বোধ নই। আমরা তোমাদের দিল ও দেমাগকে আমাদের গোলাম বানিয়ে নিয়েছি তাই এখন তোমরা আমাদের চোখেই দেখ, আমাদের কান দ্বারা শোন এবং আমাদেরই চিন্তা ভাবনা দ্বারা ভাব। এখন তোমাদের অস্তিত্বে তোমাদের নিজস্ব বলতে কিছু নেই। এখন তোমরা জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে আমাদের মুখাপেক্ষী।

তোমাদের ঘরগুলো আমাদের বস্তু দিয়ে পরিপূর্ণ, তোমাদের চেতনা আমাদের ভাবনা দিয়ে ভরপুর, তোমাদের স্কুল কলেজে আমাদের প্রণয়ন করা সিলেবাস, তোমাদের বাজারে আমাদের পণ্য, তোমাদের পকেটে আমাদের দেওয়া পয়সা, তোমাদের টাকাগুলোতো আমরা আগেই মাটি করে দিয়েছি। সুতরাং তোমরা আমাদের হুকুম থেকে কিভাবে মুখ ফিরিয়ে নিবে?

তোমরা সব ধরনের টাকা পয়সার ঋণগ্রহীতা, তোমাদের জীবনাচার আমাদের আয়ত্তে, তোমাদের ব্যাংকগুলো আমাদের দয়ায় চলে, তোমাদের সকল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আমাদের টাকাকে সালাম করতে করতে সকাল করে, তোমাদের তো স্বজাতীর নওজোয়ানদের ব্যাপারে বড় গৌরব ছিল?

তোমরা বলতে, সামান্য সিক্ত হলেই এ মাটি সুজলা সুফলা হয়ে উঠে, সোনা ফলায়। সামান্য যত্ন পেলে অনেক অগ্রসর হয়। কিন্তু না, শুনে রাখ! স্বর্ণালি এ জমিনকে আমরা হিরোইন ভরা সিগারেট, কামোদ্দীপক ছবি, প্রাণহীন ব্যভিচারে পূর্ণ ফিল্ম এবং মাতাল করা গানে পরিপূর্ণ করে দিয়েছি।

তোমাদের না নিজেদের সেনাবাহিনীর উপরও খুব ফখর ছিল? এখন যাও! সেনাবাহিনীর অস্ত্রশালায় গিয়ে দেখ, যদি আমরা এ থেকে হাত গুটিয়ে নিই তাহলে তাহলে তোমাদের সকল পরিকল্পনা ধুলিস্মাৎ হয়ে যাবে । এখন তোমরা আমাদের অনুমতি ব্যতিত কারো উপর সৈন্য পরিচালনা করতে পারবেনা।

বসনিয়া এবং ইরাকে ঘটে যাওয়া কেয়ামতকে সর্বদা যেন মনে থাকে। যাও! এখন নিরাপত্তা ও কল্যাণ এতেই নিহিত যে, যে জীবনাচার ও রাস্ট্র পরিচালনা পদ্ধতি আমরা শিখিয়েছি তার উপর সন্তুষ্ট থাকা, এর থেকে মুখ না ফিরিয়ে নেওয়া। সাবধান! আমাদের দাসত্ব থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করবে না এবং আমাদের পূর্ণ বিশ্বাস যে, শত শত বছরেও এমনটা করতে পারবেনা তোমরা।

কেননা এ পথে যত চেষ্টা, ফিকির, আন্দোলন অর্থাৎ ঈমানী দৃঢ়তা, জিহাদী জজবা, সূদুরপ্রসারী ভাবনা, দ্বিনী মর্যাদাবোধ এসবগুলোই আমরা তোমাদের বুদ্ধিজীবী, আলেম, মুফাক্কির ও চিন্তাবিদদের থেকে সামান্য কিছু টাকায় খরিদ করে নিয়েছি।

আমরা তোমাদের মহিলাদেরকে টেলিভিশনের মাধ্যমে নির্লজ্জতায় উৎসাহ দিয়ে সাজ সজ্জার নানান উপকরণে তাদের পর্দার চাদরকে খুলে নিয়েছি। তোমাদের পুরুষদের অশ্লীল উলঙ্গ ফিল্ম দেখিয়ে তাদের পুরুষত্বের শিকড় উপড়ে ফেলেছি। এখন তোমাদের মাঝে আর কোনদিন কোন খালেদ, কোন তারিক, কোন সালাহুদ্দিন, কোন টিপু তৈরী হবেনা।

আর শুনো! আমরা অনুগ্রহ ভুলে যাওয়া জাতি নই, তোমাদের কওমের কিছু অনুগ্রহ আমাদের উপর রয়েছে। বিশেষ করে তোমাদের উলামায়ে কেরামের। তারা মসজিদ মাদ্রাসায় বসে একে অপরের বিরুদ্ধে কুফরির ফতোয়া দিয়ে পরস্পর লড়াই করে আমাদের চেতনা ও সংস্কৃতির পথ পরিষ্কার করছে।

তোমাদের বুদ্ধিজীবী আর চিন্তাবিদরা অতি উন্নত ও মডার্ন হওয়ার আশায় আর নেশায় নাস্তিক হয়ে আমাদের মতাদর্শ প্রচার করছে। তোমাদের শিক্ষালয়গুলো আমাদের প্রণিত সিলেবাস তোমাদের তরুণ যুবাদের মন ও মননে আমাদের থেকেও উত্তম পদ্ধতিতে শিখিয়ে ধর্মদ্রোহী হিসেবে গড়ে তুলছে।

তোমাদের ক্ষমতাসীনরা সর্বস্ব ব্যয় করে তোমাদেরকে নির্লজ্জ, আত্মমর্যাদাবোধহীন, বেদ্বীন, সাম্প্রদায়িক ও সন্ত্রাস বানাতে আমাদেরই ইশারায় সুনিপুণভাবে কাজ করে আসছে। আমরা এসব কিছুর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তোমাদের ধর্ম তোমাদের উপর কত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যে, এটা হারাম ওটা হারাম, এটা জায়েয ওটা না জায়েয।

আমোদ প্রমোদের সকল পথ সংকীর্ণ করে রেখেছে আর আমরা তোমাদেরকে জীবনের এক নতুন রং দিয়েছি এবং হালাল হারামের জিঞ্জির থেকে স্বাধীন করে দিয়েছি চীর দিনের জন্য। তারপরও কি তোমরা আমাদের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করবেনা। হে মুসলমান! হে আমাদের গোলাম! তোমরা কি শুনতে পাচ্ছ?-পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম

ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  

Comment

Share.