আল্লাহ তা‘আলা ট্রলকারীদেরকে হিদায়াত দিন

0

মুফতী আবুল হাসান শামসাবাদী ।।

জামিয়া ফরিদাবাদের মুহতামিম আল্লামা আবদুল কুদ্দুস (দা. বা.) একজন আল্লাহওয়ালা বুযুর্গ বিদগ্ধ আলেমে দ্বীন। তিনি এদেশের লক্ষ লক্ষ উলামায়ে কিরামের শ্রদ্ধাভাজন বিশিষ্ট মুরব্বী। কিন্তু উনার নামে যারা ফেসবুকে রসিয়ে রসিয়ে কথামালা ফাঁদছেন, তারা কি মহান আল্লাহর নিকট জবাবদিহিতার ভয় করেন না? তারা কি মহান আল্লাহর দরবারে নিজেদের সাধুতা প্রমাণ করতে পারবেন?

বস্তুত আল্লামা আবদুল কুদ্দুস (দা. বা.)-এর নামে যত বদনাম প্রচার করা হচ্ছে, আমি তাহকীক করে দেখেছি, তা সর্বৈ মিথ্যা অপবাদ। উনি মহাসচিব–উনি এটা–উনি সেটা–এসবের কারণে কেন উনাকে নিয়ে ট্রল করা হবে? কারণ, উনি তো এসব দায়িত্ব নিজের থেকে কাঁধে নেননি, বরং তাঁকে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। উনার শরীরের যে অবস্থা, তাতে এসব দায়িত্ব পালন উনার জন্য খুবই কষ্টকর হচ্ছে এবং সে কারণে তিনি এসব দায়িত্ব নিতে চাননি। কিন্তু মুরব্বীগণ রিকোয়েস্ট করে এসব দায়িত্ব উনাকে দিয়েছেন। সেভাবে উনি যথাসম্ভব এসব দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

আরো পড়ুন : বেফাকের প্রশ্নফাঁস ও মহাসচিব আব্দুল কুদ্দুস; ঘটনার পেছনের ঘটনা (ভিডিও)

তারপর ফোনালাপের বিষয়ে আসুন। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সাহেব একা সব কাজ সমাধা করতে হিমসিম খাচ্ছেন আর এমতাবস্থায় একজন সহকারী নিয়োগ দিতে অনেক খুঁজেও সেরূপ যোগ্যতাসম্পন্ন কাউকে পাচ্ছেন না বলে তিনি আল্লামা আবদুল কুদ্দুস সাহেবের নিকট জানিয়েছেন।

তখন আল্লামা আবদুল কুদ্দুস সাহেব তাকে হেল্প করার জন্য সেরূপ লোক বন্দোবস্ত করে দেয়ার কথা বলেছেন। এটা তো বেফাকের দায়িত্বশীল হিসেবে উনার পক্ষে প্রশংসার কাজই হতে পারে, নিন্দার কাজ নয়। সুতরাং এ বিষয় নিয়ে কেন উনার বদনাম করা হবে?

তেমনিভাবে কোন এক মাদরাসার দাওরায়ে হাদীসের ছাত্রদেরকে হাইয়াতুল উলয়ার পরীক্ষায় অংশগ্রহণকে সঙ্গত করার জন্য তাদের মিশকাতের রেজাল্ট যেভাবেই হোক যুক্ত করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে বিষয়টি উসূলের খিলাফ না হয়। এটা তো এ ধরনের ক্ষেত্রের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

আরো পড়ুন : এবার বেফাকের খাস কমিটি নিয়ে আবু ইউসুফ ও আনাস মাদানীর ফোনালাপ ফাঁস (ভিডিও)

এমন ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রক্রিয়া অনেকেই গ্রহণ করেছেন–যা নিয়ে কোন কথা উঠেনি। সুতরাং এটা নিয়ে কেন উনার চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধার করা হবে? এটা কেমন ইনসাফ? যারা এসব করছেন, সেই পরীক্ষাটা যদি তাদের সংশ্লিষ্ট মাদরাসার হতো, তাহলে কি এমন কথা বলতে পারতেন?

এভাবে দেখা যায়, চিলে কান নিয়েছে বলার পর ট্রলকারীরা সবাই চিলের পিছনে দৌড়াচ্ছেন। নিজেদের কান ঠিক আছে নাকি নেই, সেদিকে কোন খিয়ালই করছেন না। তাদের উচিত–সর্বাগ্রে নিজেদের কানে হাত দিয়ে দেখা।

বলা বাহুল্য, অন্যায় ট্রলকারীরা যা কিছু করছেন, সবকিছুরই জবাব মহান আল্লাহর দরবারে দিতে হবে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন- وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ ۚ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَٰئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا

“যে বিষয়ে তোমার সম্যক ইলম নেই, তার পিছনে পড়ো না। নিশ্চয় কান, চক্ষু ও অন্তঃকরণ এদের প্রত্যেকটিই জিজ্ঞাসিত হবে।” (সূরাহ বনী ইসরাঈল, আয়াত নং ৩৬)


বলা বাহুল্য, একজন পরহেজগার আল্লাহওয়ালা শাইখ-বুযুর্গের নামে নানা মিথ্যা অপবাদ দিতে ট্রলকারীদের বুক একটুও কাঁপে না–এটা বড়ই আশ্চর্যজনক বিষয়। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে হিদায়াত দান করুন। আমীন।

লেখক : সম্পাদক, মাসিক আর্দশ নারী

ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  

Comment

Share.