আয়া সোফিয়া নিজের টাকায় কিনে মসজিদ বানান সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহ

0

মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী ।।

কনস্টান্টিনপোল বিজয়ের পর ১৪৫৩ ঈসাব্দে ওসমানী সুলতান মুহাম্মাদ নগরীর নাম রাখেন ইসলামপোল। সময়ে এ নামটিই আজকের ইস্তানবুল। এর প্রাচীন ঐতিহ্য আয়া সোফিয়া ততকালীন পাদরি ও বিজিত বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের ধর্মীয় নেতাদের কাছ থেকে নগদ টাকার বিনিময়ে কিনে নিয়েছিলেন বিজয়ী সুলতান।

আরবীতে বললে সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতেহ। প্রায় ৬ শ বছর ধরে সুলতানের খরিদা ও ওয়াকফকৃত এ মসজিদ মসজিদই আছে। তিনি যথেষ্ট বৈধতা এবং যৌক্তিক বহু কারণ থাকা সত্বেও গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরিত করেননি।

মাঝে ধর্মহীন সেক্যুলার যুগে কামাল আতাতুর্কের হাতে এটি হয়ে যায় মিউজিয়াম। প্রায় ৮৬ বছর পর সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতেহের গির্জা ক্রয় ও মসজিদের জন্য ওয়াকফের দলিল দেখে তুরস্কের আদালত মিউজিয়ামটি আবার মসজিদ হিসেবে চালু করার পক্ষে রায় দেন।

দুনিয়ার যারা এ বিষয়ে চেঁচামেচি করছে, তাদেরকে বলি, ৮০০ বছর শাসনের পর প্রতারণা ও অত্যাচার করে স্পেন থেকে যারা মুসলমানদের বের করে ছেড়েছ, তোমরা গ্রানাডা, কর্ডোভা, মাদ্রিদ, টলেডো, ইশবেলিয়ার মসজিদগুলো কেন গুদামঘর, আস্তাবল, মিউজিয়াম বানিয়ে রেখেছ?

ভারতের ৫০০ বছর আগের বাবরী মসজিদসহ শত শত মসজিদ কেন ভাঙা হয়েছে? এসবের ব্যাপারে সামান্য কিছু বলো! একটি আওয়াজ তোলো। তোমরা জ্ঞানী গুণী সচেতন মানুষ হয়েও সব চেঁচামেচি শুধু মুসলমানদের জন্য তুলে রাখ কেন?

নিজের কেনা গির্জায়ও মসজিদ মাদরাসা তৈরি করা যাবে না, এমন বিধান কোথায় তোমরা পেয়েছ? সব মানুষ অন্যায়-অবিচার করেও এত ভালো, আর মুসলমান তার ন্যায্য অধিকার দাবি করলেও এরা ‘ভালা’ না। এইটা কেমন বিচার???

আয়া হাজিয়া সোফিয়া ক্রয়ের দলিল, মসজিদের নামে ওয়াকফের কাগজপত্র এবং সাম্প্রতিক আদালতের রায় বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য এরদোগানের স্বাক্ষর করা, হাজিয়া সোফিয়ায় জুমা ও জামাতে নামাজ পড়ার ডিক্রি জারির প্রেসিডেন্সিয়াল পত্রসহ মসজিদের কিছু ছবি দেয়া হলো।

লেখক : চেয়ারম্যান ও মহাপরিচালক, ঢাকা সেন্টার ফর দাওয়াহ এন্ড কালচার

ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  

Comment

Share.