ইদুল আজহা ও কুরবানি

0

হাফিজ আবু তাইয়্যিব রুম্মান ||

প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও আমাদের সামনে ইদুল আজহা উপস্থিত। ইদুল আজহা মুসলমানদের অন্যতম উৎসবের দিন। এইদিন ধনী-গরিব, রাজা-প্রজা সকলে ইদগাহে সমবেত হয়ে ইদের নামাজ আদায় করেন। নামাজ পরে ছোট-বড় সবাই একে অন্যের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। এরপর যারা সামর্থ্যবান, তারা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের জন্য শরিয়তনির্দেশিত পন্থায় তাদের কুরবানির পশু আল্লাহর নামে উৎসর্গ করেন এবং আল্লাহ তাআলার আরও নৈকট্য লাভের আশায় কুরবানির পশুর গোশত আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী এবং যারা কুরবানি দিতে পারেনি, তাদের মাঝে বণ্টন করেন; শুধু নিজের জন্যই রেখে দেন না। এটা ইসলামের সৌন্দর্য। ইসলাম আমাদের এই শিক্ষাই দেয় যে, তুমি শুধু একার নয়; বরং সবাইকে নিয়েই তুমি। তুমিতে পরিপূর্ণ হতে হবে।

কুরবানির বিধান

কুরবানির বিধান যুগে যুগে সব শরিয়তেই বিদ্যমান ছিলো। মানবসভ্যতার দীর্ঘ ইতিহাসে প্রমাণিত যে, পৃথিবীর সব জাতিই কোন না কোনাভাবে আল্লাহ তাআলার দরবারে তার প্রিয় বস্তু উৎসর্গ করতেন। সবার উদ্দেশ্য একটাই ছিলো, আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করা।

তবে আমরা যে কুরবানি করে থাকি, তা হলো হজরত ইবরাহিম আ.-এর সুন্নাহ। বস্তুত হজরত ইবরাহিম আ.-এর সন্তান কুরবানি দেওয়ার এ অবিস্মরণীয় ঘটনাকে প্রাণবন্ত করে রাখার জন্য উম্মতে মুহাম্মাদির উপর এ বিধান চালু করা হয়েছে। আমাদের শরিয়তের কুরবানি এবং পূর্বেকার যুগের শরিয়তের কুরবানির মধ্যে একটা পার্থক্য হচ্ছে, পূর্বেকার যুগের শরিয়তে যে-কোন বস্তু দ্বারাই কুরবানি করা বৈধ ছিল; কিন্তু আমাদের শরিয়তে শুধু গবাদিপশুর মাধ্যমেই কুরবানি করতে হবে এবং এর মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে কুরআনে বর্ণিত হয়েছে- “আর আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্যই কুরবানির নিয়ম করে দিয়েছি, যাতে করে তাদেরকে উপজিবীকা স্বরূপ যে সব চতুষ্পদ জন্তু দিয়েছি সেগুলোর উপর আল্লাহ পাকের নাম উচ্চারণ করে। বস্তুতঃ তোমাদের মা’বুদ এক আল্লাহ পাকই। অতএব, তোমরা শুধু তারই নিকট পূর্ণ আত্মসমর্পণ করো এবং যারা বিনয়াবনত, তাদেরকে সুসংবাদ দাও।”

“আল্লাহ পাকের নাম স্বরণ করা হলে যাদের অন্তর ভীত সন্ত্রস্থ হয় এবং তাদের উপর কোন বিপদ আপদ হলে তারা সবর অবলম্বন করে এবং তারা নামাজ কায়েম করে এবং তাদেরকে যে রিজিক দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে।” [সুরা হজ : ৩৪-৩৫]

হাদিস শরিফে এসেছে : “হজরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলে আকরাম সাঃ ইরশাদ করেছেন, কুরবানির ইদের দিন পশুর রক্ত প্রবাহিত করা অপেক্ষা আল্লাহ তাআলার নিকট অধিক পছন্দনীয় আর কোন আমল নেই এবং নিঃসন্দেহে কুরবানিদাতা কিয়ামতের দিন তার কুরবানির পশুর শিং, পশম এবং খুর সঙ্গে নিয়ে আসবে। আর তিনি এ কথা ও ইরশাদ করেছেন যে, কুরবানির পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই তা আল্লাহ তাআলার দরবারে কবুল হয়ে যায়। অতএব তোমরা খুব খুশি মনে কুরবানি করো। [মিশকাত]

“হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাঃ মদীনায় ১০ বছর অবস্থান করেছেন এবং বহুবার (প্রতি বছর) কুরবানি করেছেন। [তিরমিজি]

“যায়িদ ইবনে আরকাম রা. হইতে বর্ণিত; তিনি বলেন, এক বার সাহাবিগণ জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এই কুরবানি কি? তিনি বললেন : এটা তোমাদের পিতৃপুরুষ হজরত ইবরাহিম আ.-এর সুন্নাহ। অতঃপর সাহাবায়ে কিরামগণ জিজ্ঞাসা করলেন, এতে আমাদের কি সাওয়াব হবে? তিনি বললেন, প্রত্যেক পশমের বিনিময়ে একটি নেকি হবে। আবার জিজ্ঞাসা করা হলো, পশমের বিনিময়েও কি সাওয়ার হবে? তিনি বললেন, প্রত্যেক পশমের বিনিময়েও সাওয়াব হবে।

ইমাম আবূ আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযিদ ইবনে মাজাহ রাহ. তাঁর সুনান গ্রন্থেও হাদিসটি বর্ণনা করেন, “জাবালা ইবনে সুহাইম রা. বলেন, এক ব্যক্তি ইবনে উমর রা. কে জিজ্ঞাসা করলেন, কুরবানি করা কি ওয়াজিব? তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাঃ এবং সকল মুসলমানগণ কুরবানি করেছেন। ঐ ব্যক্তি দ্বিতীয় বার একই প্রশ্ন করলে ইবনে উমর রা. বললেন, তোমার কি বুদ্ধি আছে? রাসুলুল্লাহ সাঃ ও সকল মুসলমানগণ কুরবানি করেছেন। হজরত ইবনে উমর রা. এর উদ্দেশ্য ছিলো, তোমাদের এ গবেষণায় পড়ে থাকা ঠিক নয় যে, পরিভাষায় কুরবানি করা ওয়াজিব, সুন্নাহ না কি ফরজ? রাসুলুল্লাহ সাঃ এবং সকল মুসলমানগণ কুরবানি করেছেন। অতএব তোমাদেরও এটি করা উচিৎ।

 কুরবানির গুরুত্ব

কুরবানি করার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা। এ জন্য প্রাণী জবাই করার বিধান প্রবর্তিত হয়েছে। এই বিধানকে অমান্য করে কেউ যদি কুরবানির মূল্য দান করে দেয় অথবা তার পরিবর্তে খাদ্য-শষ্য, কাপড় ইত্যাদি গরিবকে দান করে দেয় তবে তার দ্বারা আল্লাহ পাকের এ বিধান পালন করা হবে না; বরং কুরবানি না করার দরুন গুনাহগার হবে এবং প্রতিটি পশমের বিনিময়ে যে সওয়াব লাভে ধন্য হতো, তা থেকে বঞ্চিত হবে।

একটি হাদিসে ইরশাদ হয়েছে : যে ব্যক্তি সঙ্গতি থাকা সত্বেও কুরবানি করে না সে যেন আমাদের ইদগাহে না আসে। এই হাদিস থেকেও কুরবানি করার অনেক তাকিদ প্রমাণিত হচ্ছে। রাসুলুল্লাহ সাঃ যেহেতু নিয়মিত কুরবানি করতেন এবং এই আমলের জন্যে তাকিদ করেছেন সে জন্য হজরত ইমাম আবু হানিফা রাহ. সঙ্গতি, বিত্তবান ও নেসাবসম্পন্ন লোকদের উপর কুরবানি করা ওয়াজিব বলেছেন।

হজরত সুফিয়ান সাওরি রাহ. বলেন, আবু হাযিম রাহ. ঋণগ্রহণ করে বাইতুল্লাহ শরিফে কুরবানির পশু প্রেরণ করতেন। তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, আপনি ঋণ গ্রহণ করে কুরবানির পশু প্রেরণ করেন? তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন “তোমাদের জন্য এতে কল্যাণ রয়েছে”।

হজরত ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করেছেন, কুরবানির ইদে কুরবানি করায় যেই রৌপ্যমুদ্রা তুমি খরচ করেছ, তা অপেক্ষা উত্তম কোন কাজে তুমি খরচ করনি। ইমাম দারা কুতনি রাহ. তাঁর সুনান গ্রন্থে এমনই বর্ণনা করেছেন।

কার উপর কুরবানি করা ওয়াজিব

মুসলমান, স্বাধীন, সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক, মুকীম ব্যক্তি যার কাছে (ইদের দিবসগুলোতে) সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা অথবা তার মূল্যের সমান টাকা বা এই মূল্যের সমপরিমাণ ব্যবসায়িক পন্য অথবা এই মূল্যের সমান অতিরিক্ত আসবাব পত্র থেকে থাকে, তাহলে তার উপর কুরবানি এবং ফিতরা ওয়াজিব।  অনেকে মনে করেন যার উপর যাকাত

ফরজ হয়নি তার উপর কুরবানি ও ওয়াজিব হবে না; কিন্তু কথাটি সঠিক নয়, কারণ এমন লোকও আছেন যাদের উপর সোনা-রূপা, ব্যবসায়িক পণ্য অথবা নগদ অর্থ নেসাব পরিমাণ না থাকায় যাকাত ফরজ হয়নি অথচ অতিরিক্ত আসবাব পত্র সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের পরিমাণ থাকার দরুণ কুরবানি ওয়াজিব হয়ে পড়ে; কিন্তু এসব ব্যবহৃত অতিরিক্ত আসবাবপত্রের কারণে জাকাতও ফরজ হয় না।

যাকাত এবং কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে আরেকটি পার্থক্য আছে। নেসাব পরিমাণ টাকা চন্দ্র মাসের হিসাবে বারো মাস অতিবাহিত হওয়ার পর যাকাত ফরজ হয়ে থাকে; কিন্তু কুরবানির জন্য নেসাব পরিমান টাকা কুরবানির দিবসগুলোর আগের চব্বিশ ঘণ্টাও সঞ্চিত থাকা জরুরি নয়। জিলহজ মাসের নয় থেকে বারো (9-12)তারিখের মধ্যে যদি এই পরিমাণ সম্পদ কারো হস্তগত হয়,যে পরিমাণ দ্বারা কুরবানি ওয়াজিব হয়, তবে তার উপর পরদিন কুরবানি করা ওয়াজিব হবে। বলা বাহুল্য যে, নেসাব পরিমাণ অর্থ হস্তগত হলেই কুরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকে। প্রত্যেকের মালিকানা পৃথক পৃথক দেখতে হবে। অর্থাৎ যদি কোন পরিবারে পিতা, পুত্র এবং পুত্রের মায়ের মালিকানায় এই পরিমাণ অর্থ থাকে, যে পরিমাণের দ্বারা নেসাব পূর্ণ হয়ে যায়, তাহলে প্রত্যেকের জন্য পৃথক পৃথক কুরবানি করতে হবে। অবশ্য নাবালেগের পক্ষ থেকে কোন অবস্থাতেই কুরবানি ওয়াজেব হবে না। সাধারণতঃ মহিলদের নিকট যে পরিমাণ গহনা থাকে, তাতে কুরবানি ওয়াজিব হয়ে যায়।

কুরবানির উদ্দেশ্য

আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেন, “এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু তাঁর (আল্লাহর) কাছে পৌঁছে তোমাদের মনের তাকওয়া।”

এ আয়াতে কুরবানির প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হয়েছে এবং এর উদ্দেশ্য বর্ণিত হয়েছে। কুরবানির উদ্দেশ্য হল, আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভ, আল্লাহ পাকের প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ করা, তাঁর অনুগত হওয়া। যেমন হজরত ইবরাহিম আ.-কে আল্লাহ পাক স্বপ্নযোগে এই আদেশ দিয়েছেন, তোমার প্রাণাধিক প্রিয় পূত্র ইসমাইলকে জবেহ কর। হজরত ইবরাহিম আ. সঙ্গে সঙ্গে প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল আ. কে আল্লাহ পাকের আদেশ সম্পর্কে জ্ঞাত করলেন। কিশোর ইসমাইল আ. আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কুরবান হতে অকুন্ঠ চিত্তে সম্মতি দিলেন। পবিত্র কুরআনে কারিমে রয়েছে এই ঘটনার বিবরণ।

কুরআনে আল্লাহ ইরশাদ করেন : “(হজরত ইবরাহিম আ. হজরত ইসমাইল আ. লক্ষ করে বললেন) হে আমার প্রাণাধিক প্রিয় পুত্র! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে জবাই করছি; অতএব, এ সম্পর্কে তোমার অভিমত ব্যক্ত কর। ইসমাইল আ.-এর জবাবে বললেন, তিনি বললেন, হে আমার পিতা! আপনার প্রতি যে আদেশ হয়েছে তা আপনি পালন করুন, “ইনশা আল্লাহ” আপনি আমাকে ধৈর্য ধারণকারিদের অন্তর্ভূক্ত পাবেন।এরপর হজরত ইবরাহিম আ. আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে তাঁর সান্নিধ্য ও নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে প্রিয় পুত্র ইসমাইল আ. কে জবাই করতে উদ্যত হলেন। পবিত্র কুরআনে কারিমে হজরত ইবরাহিম আ.-এর এ ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ করে বিশ্ব মুসলিমকে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ করার আহবান জানানো হয়েছে। তাই আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের জন্যে প্রয়োজন হলে নিজের সর্বস্ব পর্যন্ত কুরবান করার বাস্তব শিক্ষা রয়েছে এই ঘটনায়।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন : “এরপর ইবরাহিম আ. ও ইসমাইল আ. আল্লাহ পাকের মহান দরবারে পূর্ণ আত্মসমর্পণ করলেন। আল্লাহ পাক ইবরাহিম আ. কে ডাক দিয়ে বললেন, হে ইবরাহিম! তুমি অবশ্যই তোমার স্বপ্নের সত্যতা প্রমাণ করেছ, নিশ্চয় আমি এভাবেই নেককার লোকদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।

বস্তুতঃ হজরত ইবরাহিম আ. আল্লাহ পাকের প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের যে অনুপম আদর্শ স্থাপন করেছেন, তা যেমন অতুলনীয়, ঠিক তেমনিতাবে চির অনুসরণীয়। হজরত ইবরাহিম আ.-এর সেই কুরবানির অনুসরণে বিশ্ব মুসলিমকে প্রত্যেক বছর দশই জিলহজ্জ আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কুরবানি দিতে হয়। বিগত প্রায় সোয়া পাঁচ হাজার বছর ধরে এই বিধানের উপর আমল করা হচ্ছে এবং “ইনশা আল্লাহ” কিয়ামত পর্যন্ত হতে থাকবে। অতএব, কুরবানির জন্তু কত বড় বা কত দামি এসব বড় কথা নয়; বরং বড় কথা হল, কি উদ্দেশ্যে কি জন্যে কুরবানি করা হয়েছে। এ জন্যই আল্লাহ পাক আলোচ্য আয়াতে দুনিয়ার মানুষদেরকে একটি ম্যাসেজ দিতে চাচ্ছেন তা হলো, তাকওয়া এবং পরহেজগারি তাই হলো আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের একমাত্র পন্থা।

ইরশাদ হয়েছে : “এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহ তাআলার কাছে পৌঁছে না, কিন্তু আল্লাহ তাআলার কাছে পৌঁছে তোমাদের মনের তাকওয়া। ”

একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করেছেন : “আল্লাহ তাআলা না তোমাদের আকৃতির প্রতি দৃষ্টিপাত করেন, না তোমাদের সম্পদের প্রতি তাকান কিন্তু তিনি তোমাদের অন্তর ও আমল সমূহের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন।”

অন্য একটি হাদিসে বর্ণিত আছে : “সদকাহ কৃত জিনিস সদকাহ গ্রহণ করনেওয়ালার নিকট পৌঁছানোর পূর্বেই তা আল্লাহ তাআলার নিকট পৌঁছে যায়।” অনুরূপভাবে কুরবানির পশুর রক্ত জমিনে পড়ার পূর্বেই উহা আল্লাহ তাআলার নিকট কবুল হয়ে যায়।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা

১. কুরবানি কতদিন করা যাবে?

কুরবানি করার সময় হলো জিলহজ্জ মাসের দশ তারিখ থেকে নিয়ে বারো তারিখ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত। এই তিন দিনের যেকোন দিন কুরবানি করা জায়েয। তবে উত্তম পন্থা হলো জিলহজ্জের দশ তারিখ কুরবানি করা।

২. কুরবানির পশুর বয়স কত হতে হবে?

  • গরু,মহিষ এইসব পশুর বয়স কমপক্ষে দুই (2) বছর পূর্ণ হতে হবে।
  • ছাগল, বেড়া, দুম্বা এইসব পশুর বয়স কমপক্ষে এক (1) বছর পূর্ণ হতে হবে।
  • উটের বয়স কমপক্ষে পাঁচ (5) বছর পূর্ণ হতে হবে।
  • ৩. কুরবানির পশুর মধ্যে কি কি ত্রুটি থাকলে তা কুরবানি দেওয়া জায়িজ হবে না?

যেহেতু কুরবানির জন্তুটি আল্লাহ তাআলার মহান দরবারে পেশ করা হয়ে থাকে, এ জন্য এটি উৎকৃষ্ট ধরণের অর্থাৎ মোটা-তাজা, সুস্থ-সবল এবং সকল প্রকার দোষ থেকে মুক্ত হতে হবে।

হজরত আলী রা. থেকে বর্ণিত আছে যে,রাসুলুল্লাহ সাঃ আমাদেরকে নির্দেশ প্রদান করেছেন,যেন আমরা কুরবানির পশুর চোখ এবং কান ভালভাবে পরিক্ষা করে নেই এবং এমন জন্তু কুরবানি না করি যার কানে ছিদ্র আছে। “তিরমিজি শরিফ”

হজরত বারা ইবনে আযিব রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, হজুরে পাক সাঃ এর দরবারে আরজ করা হলো কুরবানির ব্যাপারে,কি ধরণের পশু কুরবানি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। তিনি ইঙ্গিতে ইরশাদ করলেন যে, (বিশেষ ভাবে) চার ধরণের পশু কুরবানি করা থেকে বিরত থাক।

  • এরূপ খোঁড়া পশু যার খোঁড়ামি প্রকাশ পায়।
  • এরূপ অন্ধ পশু যার অন্ধত্ব প্রকাশিত।
  • এরূপ রুগ্ন পশু যার রোগ প্রকাশ পেয়েছে।
  • এরূপ কৃশ এবং পাতলা পশু যার হাড়ে একটি আবরণ ছাড়া আর কিছুই নেই।

৪. কুরবানির পশুর গোশত বা চামড়া কসাইকে পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া যাবে?

কুরবানির পশুর গোশত বা চামড়া কসাইকে পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া জায়িজ হবে না।

৫. কুরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করার পর, চমড়ার মূল্য কি কুরবানি দাতা নিজের কাজে ব্যবহার করতে পারবে?

না, কুরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করে দিলে সেই চামড়ার মূল্য কুরবানি দাতা নিজের কাজে ব্যবহার করতে পারবে না। চামড়ার মূল্য সাদাকাহ করে দেওয়া ওয়াজিব।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  

Comment

Share.