করোনা মহামারী সহসাই যাচ্ছে না কী ভাবছেন কওমি মুরব্বীরা?

0

ইমদাদুল হক নোমানী ।।

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড একটি বেসরকারি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। স্বায়ত্তশাসিত হলো, যেসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য নিজস্ব রুলস-রেগুলেশন রয়েছে, সেগুলোতে সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে না। যেহেতু কওমি মাদ্রাসা সরকারের অনুদান বা অনুকম্পায় চলে না সেহেতু তারা হুকুমতের চাপিয়ে দেয়া সকল হুকুমগিরী মানতেও বাধ্য নয়।

মধ্যপ্রাচ্যের মতো বাংলাদেশের সকল মসজিদ “আওকাফ” বা সরকার পরিচালিত নয়। আমাদের দেশে মসজিদের ইমামের বেতন, ফ্যামিলি কোয়ার্টারসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা গভর্মেন্ট দেয় না। সঙ্গত কারণে সেসব মসজিদে সরকারের সকল নির্দেশনা চলে না এবং মসজিদ কর্তৃপক্ষ সরকারের সকল সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্যও না।

তারপরও সার্বিক বিবেচনায় কওমি মাদ্রাসা ও মসজিদগুলো স্রোতের বিপরীতে অবস্থান নেয়নি। মহামারি করোনা ভাইরাসকে আমলে নিয়েই এতোদিন সরকারের সকল নির্দেশনা অনুসরণ করে আসছে। এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বার্থেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে গ্রহণযোগ্য সকল ফরমান মানাটাই উচিত এবং প্রয়োজন বলে মনে করি।

রমজান পরবর্তী কওমি শিক্ষাবর্ষের শুরুতে মাদ্রাসা খুলে দিতে আমাদের বোর্ড কর্তৃপক্ষ সরকারের উচ্চপর্যায়ে বসাবসি, মাতামাতি শুরু করেন। শেষতক ১লা জুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহ অনুমোদনক্রমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কওমি মাদ্রাসার ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা হাসিল হলো। শেষধাপে ১৫ জুন সরকার আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দীর্ঘছুটি ৬ আগষ্ট পর্যন্ত বর্ধিত করে। এরপর…

ইসলামিক ফাউন্ডেশন আমাদের নির্দেশনা দেবার কে? আমরা কী ধর্মমন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত সরকারি কোন প্রতিষ্ঠান? সে আলোচনায় আমি যাচ্ছি না। প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ বোর্ড হতে আমরা কী নির্দেশনা পেলাম? ১৫ জুনের পর ইলহাকভুক্ত মাদারিসগুলোর প্রতি পরামর্শমূলক কোন সার্কুলার বা বোর্ডের ওয়েবসাইট, ফেইসবুক পেইজে কিছু কী পেয়েছি?

আমি বলছি না, এই মুহুর্তে মাদ্রাসা খুলে দেয়ার আনাড়ি কোন সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হোক। তবে এর বাইরে কী আর কিছু করার নাই? সরকারের দেয়া প্রণোদনাকে প্রত্যাখ্যান করার মতো সাহসী ভূমিকা রাখতে পারলে, চলমান বিষয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক, দূরদর্শী আরও কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা কী যায় না? আমরা কী সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো দায়িত্বশীল ও মুরব্বিশূণ্য হয়ে পড়েছি!

ছরেতাজ মুরব্বিয়ানে কেরাম! করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন এখনও আবিষ্কার হয়নাই। স্বাস্থ্যবিদদের মতে করোনা সহসাই যাচ্ছে না। তাইলে কী করা! আমরা কী এখলাছের সাথে সামাজিক-শারিরীক দূরত্ব বজায়ের আমল চালিয়েই যাবো? এভাবে আর কতদিন? এটাই কি আমাদের জন্য প্রকৃত এবং একমাত্র পথ ও সমাধান?

আফোয়ান! একটু ভাবুন! ভাবতে দেরি করলে হারাতে হবে হয়তো অনেক কিছু। আল্লাহকা ওয়াস্তে, এই ইস্যুতে সবাই এক টেবিলে একবার বসুন। আপনাদের অনুসারী আমাদেরকে একটা ফয়সালা দিন। শান্তনা দিন। আমরা এখনও আছি আপনাদের দিকে তাকিয়ে। আমরা যথাযথ শ্রদ্ধার সাথে অপেক্ষা করছি, একটি সঠিক সিদ্ধান্ত ও সুন্দর দিকনির্দেশনার।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  

Comment

Share.