ঘরের বিষয় রাজপথে টেনে এনে তৃতীয় শক্তিকে সুযোগ দেয়া উচিৎ হবে না

0

ইমদাদুল হক নোমানী ||

মওদুদীবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন, সংগ্রাম, লেখনী এবং স্বরুপ উন্মোচনের নামে মাহফিল করে তাদের সাংগঠনিক বিস্তৃতি, মজবুতি কি ঠেকানো সম্ভব হয়েছে? সময়ের ব্যবধানে ইসলামী রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের নিচে নিজেদের অবস্থান নিয়ে আত্মতুষ্টি ও জোটের সখ্যতা গড়ে তুলেছেন সেই আপনারাই।

প্রিয় উস্তাদ শায়খুল হাদীস আল্লামা আজীজুল হক রাহ., প্রিন্সিপাল আল্লামা হাবীবুর রহমান ও ড. আহমেদ আব্দুল কাদেরদেরকে শীয়া, মওদুদী অপবাদ দিয়ে বই রচনাসহ সেমিনার, সিম্পোজিয়ামে হিংসাত্মক বক্তব্য দিয়ে কী লাভ হলো? সময়ের ব্যবধানে তারাইতো আহলে হকের মঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসলেন। প্রিয় প্রিন্সিপালের (সেই শিয়া নেতা?!) ইমামতিতে সিলেট কোর্ট পয়েন্টে আপনারাই নামাজ আদায় করলেন। শায়খুল হাদীসের সুযোগ্য সন্তাদেরকে সেই আপনারাইতো এখন বুকে নিয়ে গর্ব করেন।

ডা. জাকির নায়েককে ইয়াহুদীর তকমা লাগিয়ে মাঠে ময়দানে সমালোচনা, প্রতিবাদ এবং হাস্যকর তথ্যসূত্রে গ্রন্থ রচনা কেন করেছিলেন? সাধারণ মানুষের কাছে হাসিরপাত্র হয়ে শেষতক আপনারাই স্বীকার করলেন, বাংলাদেশের সকল আলেম মিলে এক জাকির নায়েকের সমান বিধর্মীদের কালেমা পড়ানোর হেডম হয়নি। ইদানীংকালে মাযহাব নিয়ে তার এক বক্তব্যে সবাই প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

ময়দানে প্রতিবাদী সম্মেলন, রাজপথে সমাবেশ, খেদাও, ঘেরাও এবং ওয়াযাহাতের নামে উস্কানিমূলক বয়ানে কী কাজ হলো? এক প্লেটে খাওয়া ভাইগুলো আজ দুষমনে পরিণত হলো। বাবা-ছেলে আপন ভাই দুই মানহাজে প্রতিহিংসার আগুনে এখন বিকল্প পথে হাটছে। উভয়ের বাড়াবাড়ি কারণে অনেক ক্ষতি হয়ে গেলো উম্মতের নিঃস্বার্থ একটি দাওয়াতের মেহনতের অতুলনীয় সংঘবদ্ধ কাজ।

আফসোস! আমরা মুকতাযায়ে হাল পড়াই কিন্তু নিজেরাই বুঝি না। ইত্তেহাদ, ইত্তেফাক, ইখওয়ানিয়াতের বয়ান দেই কিন্তু নিজেরাই আমল করি না। জায়গামতো সাদাকে সাদা আর কালোকে কালা বলতে অভ্যস্ত নয়। পশ্চিমা গণতন্ত্র চর্চায় আমাদের (ইসলামি দলের নেতাদের) অতি অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ায়, সবকিছুতেই রাজপথ নিয়ে চিন্তা করি।

ঘরের বিষয় রাজপথ সমাধান দিতে পারে না। এতেকরে নিজ ঘরে ভাঙন ও দূরত্ব বাড়ে। সব বিষয়ে রাজপথের আন্দোলন, সংগ্রাম কার্যকর সমাধানের সুন্দর পথ নয়। দূর থেকে গলাফাটা প্রতিবাদী বক্তব্য ও মুহুর্মুহু আবেগী শ্লোগান সহাবস্থানে পথ চলার সফল প্রক্রিয়া হতে পারে না। এসব অদূরদর্শী, ছেলেমানুষী কাজের জন্য একসময় পস্তাতে হয়।

তাই, ঘরোয়াভাবে একসাথে বসুন। একে অন্যের কথা শুনুন। দরদের সাথে বুঝিয়ে সুঝিয়ে সমাধানের উত্তম পথ বের করুন। তৃতীয় শক্তির হাতে নিজেদের স্বকীয়তা তুলে দেওয়ার চেয়ে, প্লাস মাইনাস করে ঘরের বিষয় ঘরেই শেষ করুন। বিভক্তি থেকে উম্মতকে হেফাজত করুন। আশাকরি এতেই কল্যাণ বয়ে আনবে। আল্লাহ আমাদের সেরেতাজ মুরব্বীদেরকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার তাওফিক দান করুন। আমি ছোট মানুষের লেখায় কোনো ভুল হলে তাও ক্ষমা করুন।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  

Comment

Share.