চেয়ার দখলই কি এখন বুজুর্গদের জন্য সবকিছু?

0

মুফতি এনায়েতুল্লাহ ||

নানা ইস্যুতে বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় আলেমরা বিভিন্ন বলয়ে বিভক্ত। ন্যায়-অন্যায়, সত্য-মিথ্যা, ইসলাম-মুসলমান কিংবা দ্বীনি মাদরাসাগুলোর স্বার্থ, নিজ দল কিংবা ব্যক্তির ক্ষুদ্র স্বার্থ, বন্ধু বলয়ের স্বার্থ, ভবিষ্যতের স্বার্থজনিত আশ্বাসসহ নানা কারণে এই বিভক্তি।

এটাকে নিরেট ব্যক্তিগত বিভক্তি বলার যেমন সুযোগ নেই, তেমনি খুব উপকারী কিংবা ইসলাম সম্পর্কিত এটা বলারও অবকাশ নেই। অনেকটা অস্পষ্ট, লক্ষ্যহীন, অদৃশ্য, পুরোনো কিংবা অন্যপক্ষের স্বার্থের পথ পরিস্কারের লড়াইয়ে মশগুল আমাদের বুজুর্গরা। সবাই পানি মাপছেন, কিন্তু মাছ ধরছেন না।

মাছ ধরলেও সেটা পানির নিচের লুঙ্গির কুঁচেই রেখে দিচ্ছেন। সেখান থেকে অবশ্য মাছ ছুটে যাওয়ার সম্ভবনা আছে, মারাও যেতে পারে, আবার খালই পর্যন্তও আসতে পারে। এমন অদৃশ্য লড়াইয়ে তরুণরা বিভ্রান্ত, আশাহত। এই লড়াইয়ের রসদ জোগাচ্ছে নানা বৈঠক-উপবৈঠক ও কুশীলবদের দৌঁড়াদৌঁড়ির পাশাপাশি দমন-অবদমন এবং জুলুম-নির্যাতনের ঘটনা।

জয়ের নেশায় ব্যক্তিগত গোপনীয় বিষয়গুলোকে মারণাস্ত্রের মতো ব্যবহার হচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে আস্থা-বিশ্বাসের জায়গা। ভিন্নমতের কারণে অনেকে তিরস্কৃত হচ্ছেন বিপক্ষীয়দের কাছে, সেই আবার নায়ক পক্ষীয়দের কাছে। সব মিলিয়ে আশা-আকাঙ্খা, চিন্তা ও আস্থা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিত্বের অবমাননা হচ্ছে। আর অবমাননার এসব কাজ করে যাচ্ছেন নেতৃস্থানীয়দের প্রচ্ছন্ন ইশারায় তরুণরা।

আরো পড়ুন : বেফাকের সাম্প্রতিক ঘটনা ও কিছু প্রস্তাব
আল্লামা শফীর জামাতা ইসহাক নূর ও বেফাকের আবু ইউসুফের ফোনালাপ ফাঁস
‘মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস সম্পূর্ণ নির্দোষ’ বললেন আল্লামা শফী
এবার বেফাকের খাস কমিটি নিয়ে আবু ইউসুফ ও আনাস মাদানীর ফোনালাপ ফাঁস (ভিডিও)

যার যার বলয়ের বুজুর্গকে অন্যদের থেকে বড়-মহান ও উচ্চ বানানোর চেষ্টায় অন্যকে ছোট করা অসুস্থতার লক্ষণ। কষ্টের সঙ্গে বলতে হয়, হাল সময়ে এসব বুজুর্গরা কাছে থাকাদের দিয়ে ইনিয়ে-বিনিয়ে এসব বলানোর চেষ্টা করেন। আর মুখে বলেন, আমি এসব কিছু জানি না।

একটা সূত্র আছে এমন, ‘প্রোপাগাণ্ডার পেছনে- বিশেষ কোনো মতলব থাকে।’ এটা বলয়ভিত্তিক মতলব। একটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সারা পৃথিবী এখন একসঙ্গে কথা বলতে অক্ষম। নিজ বলয়ের অন্যায়ে চুপ থাকে, অন্য বলয়ের অন্যায়ে হয় সরব। এমন পঙ্গুত্ব নিয়ে বর্তমান বুজুর্গরা পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে কেমন করে? পৃথিবীকে মানুষের বসবাসযোগ্য রাখবে কেমন করে? তাদের সংগঠন ও সংস্থায় ন্যায়ের চর্চাই বা হবে কেমনে?

লেখাটিকে অমানবিক ও নিষ্ঠুর মনে হচ্ছে। কিন্তু আপনার মনে এই মুহূর্তে কী বইছে বলুনতো? কোন চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে আপনার মাথায়? অমানবিক নানা আচরণের আমলনামা কী আপনার সামনে নেই?

একবার সত্যিটা ভাবুন, সত্যিটা বলুন। ক্ষুদ্র স্বার্থে, হীণস্বার্থে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে যারা কুণ্ঠিত নন, কূটকৌশল, প্রোপাগাণ্ডা, শক্তি প্রয়োগ, পদের লোভ দিয়ে যারা সত্যকে আড়াল করতে চায় তাদের প্রতি কী আপনার কোনো ক্ষোভ নেই?

যারা সত্যকে পরাস্ত করতে উদগ্রীব, যারা দ্বন্দ্ব জিইয়ে রাখতে নানা কৌশল ও কূটনীতি করছে- আসলেই কি তারা ভিন্নমতাবলম্বীকে পরাস্ত করতে পারবে? তাদের পরোজয়ে আপনি সুখ অনুভব করবেন? না কষ্টে-বেদনায় ও দুঃখে কাতর হবেন?

একটু ভাবুন। ভাবুন, তাদের লক্ষ্য কী? আপনি তাদের হাতে নিরাপদ তো? আপনাকে ‘ভীতির ভারসাম্য’ রক্ষা কিংবা ‘গিনিপিগ’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছেনাতো? এই যে উত্তাপ ও উত্তেজনা- তার ব্যাখ্যা কী? এটা কি শুধুই খেলা, নাকি বিপজ্জনক খেলা? চেয়ার দখলই কি এখন বুজুর্গদের জন্য সবকিছু?

ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  

Comment

Share.