ধামরাইয়ে ‘অভাবের তাড়নায়’ নবজাতক বিক্রি, আটক ৩

0

কওমিকণ্ঠ ডেস্ক : ঢাকার ধামরাইয়ে অভাবের তাড়নায় নবজাতক বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। সন্তান বিক্রির ৩ দিন পর পুলিশ গোপন খবরের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় ওই নবজাতক উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

গর্ভধারিণী মা নিজেই অভাবের তাড়নায় তার ওই নবজাতককে বিক্রি করেন। পুলিশ নবজাতক শিশুটি বিক্রি ও কেনার অভিযোগে এক নার্সসহ ৩ জনকে থানা হাজতে আটক করেছে। সেই সঙ্গে ৬ মাসের শিশু খাবারসহ ওই নবজাতকটি মায়ের কোলেই তুলে দিয়েছেন।

জানা যায়, ২৬ জুন রাতে উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের বাটারখোলা এলাকার সোনালী বার্তা গুচ্ছ গ্রামের মৃত বাবুল হোসেনের স্ত্রী নাজমা বেগম প্রসব বেদনা নিয়ে ধামরাইয়ের ডাউটিয়া এলাকার রাবেয়া মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।

এতে সার্বিক সহায়তা করেন স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য আছিয়া বেগম। পরে তিনি হাসপাতালে একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। নাজমা বেগম একজন অসহায় ও হতদিরদ্র নারী। এর আগেও তার আরো ২ সন্তান রয়েছে। অভাবের সংসারে ওই সন্তানের লালন পালন নিয়ে তিনি হতাশ হয়ে পড়েন।

তাই তিনি বাধ্য হয়ে ওই হাসপাতালের নার্স সাদিয়া খাতুনের কথামত এক দম্পতির কাছে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে ওই নবজাতককে বিক্রি করে দেন। নবজাতক বিক্রির বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলে ওই হাসপাতালের নার্স সাদিয়াকে সোমবার বিকালে হাসপাতাল থেকে আটক করে ধামরাই থানা পুলিশ।

ওই নার্সের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় সাভারের রাজফুলবাড়িয়া এলাকা থেকে ওই নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধার করে। এ সময় ওই নবজাতককে কেনার অভিযোগে হেলাল উদ্দিন ও তার স্ত্রী সাথী আক্তার নামের এক দম্পতিকে আটক করে পুলিশ।

এ বিষয়ে ধামরাই থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, নবজাতকের মাকে সরকারিভাবে সব প্রকার সাহায্য সহযোগিতা করা হবে। আর তিনি যাতে গুচ্ছগ্রামে একটি ঘর পান সে বিষয়েও চেষ্টা করা হবে। যেহেতু সন্তান বিক্রি করা আইনবিরোধী কাজ। তাই এর সঙ্গে জড়িত আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  

Comment

Share.