নানা অজুহাতে যারা কুরবানী দেয় না তারা যেনো ঈদগাহে না আসে!

0

মুফতী খন্দকার হারুনুর রশীদ ।।

ইসলামী শরিয়তের আলোকে বিশ্বমুসলিমের জন্য বিধিবদ্ধ নেক আমলসমূহের মধ্যে কুরবানী একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল। প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এজন্য স্বীয় জীবদ্দশায় কখনো কুরবানী বর্জন করেন নি। তিনি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা কুরবানী করবেন না, কোনো অজুহাতে বা এমনিতেই কুরবানী বর্জন করবেন তাদেরকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছেন।

হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে আছে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন– যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানী করবে না সে যেনো আমাদের ঈদগাহের নিকটেও না আসে। (ইবনু মাযাহ)

মুমিন জননী হযরত আয়েশা (রা) সূত্রে বর্ণিত আছে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন– ঈদের দিনে আদমসন্তানের সর্বোৎকৃষ্ট আমল হলো কুরবানী করা। কেয়ামতের দিন ‘কুরবানী দাতা’ কুরবানীকৃত প্রাণীর শিং লোম হাড়গোড়সহ আল্লাহর দরবারে হাজির হবেন। নিঃসন্দেহে কুরবানীতে জবাইকৃত প্রাণীর রক্ত মাটিতে ঝরার আগেই তা আল্লাহর নিকট কবুল হয়ে যায়। (জামে তিরমিযী)

হযরত যায়েদ ইবনে আরকাম (রা) সূত্রে বর্ণিত আছে তিনি বলেন– সাহাবাগণ আরজ করলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ! কুরবানী কী? প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটা হলো ‘তোমাদের পিতা’ হযরত ইবরাহীম (আ)-এর সুন্নত। সাহাবাগণ আরজ করলেন– এতে আমাদের কী কল্যাণ নিহিত আছে? প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন– এর প্রত্যেকটি পশমের বিনিময়ে একটি করে পুণ্য রয়েছে। তোমরা মোটাতাজা, হৃষ্টপুষ্ট দেখে প্রাণী জবাই করো। কেনো না, এগুলো পুলসেরাত পারাপারে তোমাদের জন্য বাহন হবে। (ইবনু মাযাহ)

পবিত্র কুরবানী সম্পর্কে আলোচিত ফযীলত লাভের জন্য আবশ্যক হলো– এমন আবেগ-অনুভূতি, প্রেমময়তা, ভালোবাসা ও ঐকান্তিকতা নিয়ে কুরবানী করা যে আবেগ-অনুভূতি, প্রেমময়তা, ভালোবাসা ও ঐকান্তিকতা নিয়ে কুরবানী করেছিলেন ‘মুসলিম জাতির পিতা’ হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম। স্মরণ রাখতে হবে যে, নিছক প্রাণী জবাই করা ও মাংসভক্ষনের নাম কোনোভাবেই ‘কুরবানী’ নয়।

প্রকৃতপক্ষে কুরবানী হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নিজের জান-মাল বিলিয়ে দেওয়ার এক অগ্নিপরীক্ষা। আল্লাহকে পাওয়ার জন্য নিজের সর্বস্ব ত্যাগ ও বিসর্জনের অনন্য এক দৃপ্ত শপথ। মহামহিম আল্লাহর প্রেমে পাগল হয়ে একজন কুরবানী দাতা প্রতীক হিসেবে প্রাণীর গলায় ছুরি চালানোর মাধ্যমে মূলত ছুরি চালনা করেন সকল কুপ্রবৃত্তির গলায়। পাশবিকতা ও সমূহ পাশবিক শক্তির গলায়। আর মুমিন জীবনে এই ধারাপ্রবাহ অব্যাহত রাখতে হবে।

সুতরাং আজ আমাদের যেসকল ভাই ও বোনেরা চলমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নানা অজুহাত এবং খুড়াযুক্তি দাঁড় করিয়ে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানী বর্জন করবেন তাদেরকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে। হাদীস শরীফের কড়া ভাষা নিয়ে ভাবতে হবে। নিজ হাতে কুরবানী করা সম্ভব না হলে অন্য কারো মাধ্যমে হলেও কুরবানী সম্পন্ন করে নিতে হবে। কারণ, পবিত্র কুরবানী এমন একটি আমল যা কাউকে প্রতিনিধি বানিয়েও সুন্দরভাবে আদায় করা যায়।

হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে তাওফিক দিন। আমাদের সকল নেক আমল কবুল করুন। আ মীন ইয়া রাব্বাল আলা মীন।

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক; নাযারাতুল মাআরিফ আল ইসলামিয়া, ফতেহপুর (৫ম) দরগাহ, গোয়াইনঘাট, সিলেট,

ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  

Comment

Share.