ইমেজ-সংকটে ভোগা বেফাক নিয়ে কয়েকটি অনুভূতি

0
মুফতী জিয়াউর রহমান ৷৷
এক. বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ৷ আমরা সংক্ষেপে শুধু প্রথম অংশ ‘বেফাক’ বলি৷ এটি কওমি মাদরাসাসমূহের বৃহত্তর একটি শিক্ষা বোর্ড৷ বেফাক ছাড়াও কওমি মাদরাসার আরো কয়েকটি বোর্ড আছে৷ তন্মধ্যে সর্বপ্রাচীন বোর্ডও আছে৷ সেগুলোতেও হাজার হাজার মাদরাসা ইলহাক আছে৷
দুই. কওমি মাদরাসা মানেই বেফাক নয়৷ বেফাক বোর্ডের বাইরেও যে হাজার হাজার কওমি মাদরাসা আছে, সেটা আমাদের অনুধাবনে থাকা উচিত৷ তখন আশাহত হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে না৷
উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের বৃহত দীনী বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসার প্রসঙ্গ তোলা যায়৷ এই মাদরাসা আগে বেফাকভুক্ত ছিলো না৷ শায়খুল হাদিস নূর উদ্দীন গহরপুরী রাহ.’র ইন্তেকালের পর হাটহাজারীর মহাপরিচালক মাওলানা শাহ আহমদ শফী দা.বা. যখন বেফাকের চেয়ারম্যান হলেন, তখন এই মাদরাসা বেফাকভুক্ত হয়৷ তাই বেফাক বোর্ডে অন্তর্ভুক্তির বিচারে হাটহাজারী মাদরাসা নবীনই বলা চলে৷
তিন. বেফাক বা যে কোনো শিক্ষা বোর্ডের কাজ হচ্ছে, ফিস উত্তোলন, পরীক্ষা গ্রহণ, রেজাল্ট প্রদান ও সার্টিফিকেট বিতরণ এবং কিছু সিলেবাসের দু-চারটি পুস্তিকা প্রণয়ন৷ এর বাইরে বোর্ডের তেমন ভূমিকা আছে বলে আমার জানা নেই৷ তাই বেফাক ‘নষ্ট’ বা ‘পঁচে’ গেলে কওমি মাদরাসার “মূল পঁচে গেছে” এমনটা বলার অবকাশ নেই৷
চার. কওমি মাদরাসার মূল বা আদর্শিক চেতনা দারুল উলুম দেওবন্দের সংগ্রামী আদর্শের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত৷ আর দেওবন্দের আদর্শ তো চির অক্ষয়৷ এটা পঁচনযোগ্য নয়৷ কারণ আদর্শ কখনো পঁচে না৷ ইতিহাস তাকে আগলে রাখে৷ তাজা রাখে৷ এমনকি বর্তমান দারুল উলুম দেওবন্দও যদি তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়, তবুও “মূল পঁচে গেছে” বলা যাবে না৷ কারণ কওমি মাদরাসা ইট-পাথরের দেওবন্দ মাদরাসার সঙ্গে নয়, বরং আদর্শের প্রতিনিধিত্বকারী দেওবন্দ হচ্ছে যার মূল ও শেকড়৷
পাঁচ. বেফাকের কতিপয় কর্মকর্তা ও দায়িত্বশীল কিছু অন্যায়ে জড়িয়ে পড়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হয়েছে৷ যারা শালীনতা বজায় রেখে এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন, এক দিক দিয়ে বিষয়টি ইতিবাচক যে, এই অঙ্গনের ছোটরাও বড়দের অন্যায় মেনে নেয় না এটা সবার সামনে পরিষ্কার হয়েছে৷ আদবের সঙ্গে অন্যায়ের প্রতিবাদ এটা ইসলামের শিক্ষার বিপরীত নয়৷
ছয়. দুর্নীতিতে যারাই জড়িত আজ হোক কাল হোক তারা সরবে৷ তাদের সরতেই হবে৷ হয়ত আবার ঢেলে সাজানো হবে বেফাককে৷ ইমেজ পুনরুদ্ধার হবে আবারও৷ সগৌরবে আবারও জেগে উঠবে বেফাক৷ যাঁরা এই বোর্ড প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত, যাঁদের ইখলাস, শ্রম আর ত্যাগের ফসল এই প্রতিষ্ঠান, তাঁদের ত্যাগ বৃথা যাবে না ইনশাআল্লাহ!
ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  

Comment

Share.