মিশরের কুরআনের পাণ্ডুলিপি বিক্রেতা এক বিস্ময়কর বালকের গল্প

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কুরআনের সেবা, সুর, তেলাওয়াত ও খেদমতে মিসরিদের বিকল্প নেই। বিশ্বব্যাপী কুরআনের সুরে মাতিয়ে রাখা অধিংকাশ ক্বারিই মিসরের। মিসরের ক্বারিদের তেলাওয়াত শুনে শুনেই কুরআনের হাজেফ-ক্বারিগণ তেলাওয়াতের অনুপ্রেরণা লাভ করেন। ১০ বছরের শিশু মোহাম্মাদও মিসরের জিযাহ প্রদেশের আল-মোহান্দেসিন এলাকার অধিবাসী।

মহান আল্লাহর গ্রন্থ কুরআন, যা মানুষের হেদায়েতের জন্য নাজিল করা হয়েছে। আর যারা এ পবিত্র গ্রন্থটি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিরলস সেবা করে যাচ্ছেন, আল্লাহ তাদেরকে বিশেষ সম্মান দান করবেন। আত্ম-মর্যাদাবোধ থেকেই পবিত্র কুরআনুল কারিমের পাণ্ডুলিপি বিতরণ ও বিক্রির কাজ করেন ছোট্ট মোহাম্মাদ।

মানুষের জন্য এ আত্ম-সম্মানবোধ বা আত্মমর্যাদাই হলো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গুণ। যা মানুষের নৈতিকতা ও চরিত্রকে সুন্দর করে তোলে। ১০ বছরের বালক মোহাম্মাদের আত্মসম্মানবোধ : মিসরের ছোট্ট বালক মোহাম্মাদের মধ্যে এ আত্ম-সম্মান ও মর্যাদাবোধ প্রকাশ পেয়েছে। মোহাম্মাদ ছোট্ট হলেও অন্যের দেয়া দান-সহযোগিতা গ্রহণ করে না।

সাধারণত কোনো সমাজে যখন কোনো ব্যক্তি অভাবগ্রস্ত থাকে এবং কোনো ধনী ব্যক্তি সেই অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিকে অর্থ প্রদান করে, কিন্তু তিনি (অভাবী ব্যক্তির মাঝে যদি আত্মসম্মানবোধ থাকে তবে) সেই অর্থ গ্রহণ না করে তা প্রত্যাখ্যান করবেন।

বিস্ময়কর বালক মোহাম্মাদের এ ঘটনাটি আল-ইয়াউম সাবেয়- এর ক্যামেরায় ধরা পরেছে। তাতে মিসরের জিযাহ প্রদেশের আল-মোহান্দেসিন এলাকার দশ বছরের বালক মোহাম্মাদের দৃঢ় আত্মমর্যাদা তাতে খুব ভাল ভাবে ফুটে উঠেছে।

এক ভিডিওতে দেখা যায়, লিবিয়ার এক যুবক মোহাম্মাদকে সাহায্য করার জন্য ১ হাজার মিসরীয় পাউন্ড দেন। কিন্তু সে তা নিতে অস্বীকার করল এবং অবশেষে তা প্রত্যাখ্যান করল।

লিবিয়ার এক যুবক তাকে ১০০০ মিসরীয় পাউন্ড দান-সহযোগিতা করে। সে যুবকের অনুদান নেয়া থেকে বিরত থেকে মোহাম্মাদ বলেন- ‘আমি আল্লাহর বাণী (কুরআন) নিয়ে ভিক্ষা করি না এবং আমি কুরআনের (পাণ্ডুলিপির) বিক্রেতা এবং এটাই আমার জন্য যথেষ্ট। আপনি যদি কুরআনের (পাণ্ডুলিপি) কিনতে চান তাহলে কিনতে পারেন। আমি কুরআনের পাণ্ডুলিপি) বিক্রি ছাড়া কোনো অর্থ গ্রহণ করবো না।

মিসরের ১০ বছরের বালক শিশু মোহাম্মাদের মধ্যে জাগ্রত থাকা আত্মমর্যাদা ও সম্মানবোধ দেখে আবেগ ও ভালোসাবায় তার মাথায় চুম্বন করেন লিবিয়ার এ যুবক। সুতরাং দান-অনুদান গ্রহণ না করা ১০ বছরের শিশু মোহাম্মাদ হোক সবার জন্য আত্মসম্মানবোধ জীবন গঠনে অনুকরণীয় আদর্শ। আর তাতে সবাই হয়ে উঠবে আত্ম-নির্ভ

ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  

Comment

Share.