সত্যপ্রতিষ্ঠায় বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই চালিয়ে যেতে হবে

0
সৈয়দ শামছুল হুদা ।।
আশরাফ মাহদীর জন্য একরাশ ভালোবাসা, এই ভালোবাসা শুধুই আল্লাহর জন্য। আর তোমাদের জন্য একদলা ঘৃণা, আর এ ঘৃণা শুধুই আল্লাহর জন্য। একদল আলেম বেশধারী প্রতারক, ঠকবাজ, মিথ্যুকদের নানা নাটকীয়তায় অসাধারণ কৃতিত্ব দেখে যারপরনাই বিস্ময়াবিভূত। ওদের প্রতিমুহূর্তের এমন চালবাজি আলিম সমাজ কখনো চিন্তা করে নাই। স্বার্থের জন্য, অর্থের লোভে, ক্ষমতার দম্ভে একদল আলেম সমাজও এত নিকৃষ্ট কৌশলী হতে পারে তা কেউ কোনদিন কল্পনা করেনি।
তরুণ আলেম সমাজকে হতে হবে সাহসী, প্রতিবাদী। আশরাফ মাহাদি হয়তো জেলে যাবে, হয়তো অনেক জুলুম নির্যাতনের শিকার হবে। কিন্তু তাই বলে কি প্রতিবাদ থেমে যাবে? স্বার্থের জন্য হয়তো আশরাফ মাহদীকে আইএস বানানো হবে, অথবা বানানো হবে ভয়ঙ্কর কোনো জঙ্গি। এমনটাই হওয়া স্বাভাবিক। অপরাধীরা নিজেদের বাঁচার জন্য যেকোনো পদক্ষেপ নিতে পরোয়া করবে না সে যতই আলেম বেশধারী হোক না কেন।
আরেকটি কথা, সব সময় শুধু মাঠ গরম করার দ্বারাতেই দায়িত্ব আদায় শেষ হয় না। কখনো প্রয়োজন হয় বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের। কখনো প্রয়োজন হয় শক্তি প্রদর্শনের। কখনো প্রয়োজন হয় চরম ধৈর্য প্রদর্শনের। সময়-সুযোগ পরিবেশ বুঝে দায়িত্বের প্রতি অবিচল থাকতে হবে। দীর্ঘমেয়াদী লড়াই-সংগ্রামের মানসিক প্রস্তুতি থাকতে হবে। সহকর্মী সংগ্রামীদের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে।
আশরাফ মাহাদী হয়ে উঠুক তরুণদের আন্দোলনের প্রতীক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার চেতনা। তবে অতি আবেগী হওয়া যাবে না। রাগে ক্ষোভে ভুল করে বসা যাবে না। কোন প্রকার অঘটন ঘটানো যাবে না। কোন প্রকার গোপন তৎপরতার সাথে সম্পৃক্ত হওয়া যাবে না। প্রতিবাদ প্রতিরোধ হতে হবে প্রকাশ্য, যুক্তিনির্ভর, বুদ্ধি নির্ভর, পরামর্শ নির্ভর।
আর নয় অন্ধ আনুগত্য, সীমাহীন প্রশ্নাতীত তোষামোদি ও তেলবাজি। এগুলো থেকে বের হয়ে আসতে হবে। যোগ্যতা, মেধা, কর্মতৎপরতা দিয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কাউকে ব্লাংক চেক দিয়ে দেওয়া ঠিক না। অতঃপর এ নিয়ে আফসোস করা আরো বেশি বোকামি। কবি মুহিব খান বলেছেন, যখন মূলে পচন ধরে যায় তখন গোড়া থেকেই তা কেটে দিতে হয়। নতুন করে সবকিছু গড়ে তুলতে হয়। নতুনদের দায়িত্ব নিতে হয়। আমাদের অঙ্গনের মূলে যে পচন ধরেছে তা বুঝতে এখন আর কারো কাছে বাকি নেই। দীর্ঘদিনের জঞ্জাল পরিষ্কার করতে কিছুটা ত্যাগ কুরবানী স্বীকার করতে হবে।
মানুষ জেনে যাবে, গোপন প্রকাশ হয়ে পড়বে, নিজেদের ঘরানার কথা অন্যরা জেনে যাবে এসব ফাঁকা বুলি আর কতদিন শুনতে হবে? যখন সমস্যা সমাধানে সকল পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়, অনুযোগ-অভিযোগ শোনার মত কেউ থাকে না, তখন আর অনেক কিছুই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় না।
বিশ্বায়নের এই যুগে এখন আর কোনো কিছুই গোপন রাখা সম্ভব নয়। লুকিয়ে আড়াল করা সম্ভব নয়। আমরা যা বলি, যা আলোচনা করি, যা প্রকাশ করি, তারচেয়ে অনেক অনেক বেশি কথা আপনার শত্রুরা জানে। তাদের গবেষণার ফাইলে আরো অনেক কঠিন কঠিন তথ্য জমা হয়ে আছে। যা আপনার জানা নেই। সময় ও সুযোগ মত আপনার শত্রুরা আপনার বিরুদ্ধে তা ব্যবহার করবে। কিন্তু আমরা এগুলো বললে, যত ক্ষোভ যত রাগ আমাদের ওপর প্রকাশ করেন, হায় আফসোস!
মুভ ফাউন্ডেশন সহ অসংখ্য সংস্থা কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের কওমি অঙ্গনকে নিয়ে গবেষণা করে, এই অঙ্গনের সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। সুতরাং আমরা যারা এই অঙ্গনারই সন্তান, আমরা এই অঙ্গনের ভালোর জন্যই কথা বলি। সমস্যা সমাধানের জন্য কথা বলি। আমরা এই ঘরের কেউ শত্রু নই। বরং অন্যায়কে, অপরাধকে চেপে রাখা, আড়াল করে রাখা, কোরআন ও সুন্নাহর দৃষ্টিতে আরও বড় ধরণের অপরাধ।
আশরাফ মাহাদী বিষয়ে সকল সাহসী বন্ধুরা এখন একসাথে আওয়াজ তুলুন। সকল প্রকার অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। সকল চিন্তাশীল আলেম সক্রিয় হন। কথা বলুন। সকল ইসলামী ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখুন। যার যার অঙ্গন থেকে বড়দেরকে বিষয়টি অবহিত করুন। তাদের থেকে বক্তব্য আদায় করুন। তারুণ্য নির্ভর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বর্তমান পরিবেশকে কাজে লাগাতে এগিয়ে আসুন।
লেখক: জেনারেল সেক্রেটারি, বাংলাদেশ ইন্টেলেকচুয়াল মুভমেন্ট বিআইএম
ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  

Comment

Share.