স্বীকৃতি যখন দিয়েছেন পিয়নের চাকরি হলেও দিতে হবে

0

সৈয়দ শামছুল হুদা ।।

কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি হয়েছে। জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে বিলও অনুমোদিত হয়েছে। কিন্তু এ সনদ দেখিয়ে কী করা যাবে সে বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়নি। যেহেতু সরকার এ সনদের মান দিয়েছে ইসলামিক স্টাডিজ ও এরাবিকে এমএ এর সমমান, সুতরাং এ কথা সরকারকে ব্যাখ্যা করতে হবে যে, কওমী সন্তানরা এই সনদ নিয়ে কোথায় কোথায় দাঁড়াতে পারবে।

কওমি তরুণ ফারেগীনদের কর্মসংস্থানের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সুপ্রীম কোর্টের সম্মানিত এডভোকেট মস্তোফা জামাল ভুঁইয়ার নেতৃত্বে আইনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আমি কওমী তরুনদের জন্য ১০দফা কর্মসংস্থান প্রস্তাব ইতিপূর্বেই উপস্থাপন করেছি।

মনে রাখবেন, এই স্বীকৃতি শাপলার বড় ধরণের কোরবানীর বিনিময়ে আদায় হয়েছে। যদিও শাপলার আন্দোলনে এটা উদ্দেশ্য ছিল না, কিন্তু সরকার কওমী সনদের নিঃশর্ত অনুমোদন দিয়ে শোকরানা মাহফিল আদায় করার মাধ্যমে আমাদেরকে ব্লাঙ্কচেক দিয়েছে। এবার আমাদের অধিকার আদায়ের সময়। আমরা একটু সোচ্চার হলে কিছু কিছু বিষয়ে কর্মসংস্থানের পথ খোলা সম্ভব। ইনশাআল্লাহ

যারা মিথ্যা তাওয়াক্কুলের কথা বলে আমাদের ধোকা দেয় তারা নিজেরা প্রতিষ্ঠিত। প্রতিবছর প্রায় ২০/২৫হাজার তরুন আলেম কওমী থেকে পাশ করছে। এদের সবাইকে শুধু মসজিদ আর মাদ্রাসায় নিয়োগ দেওয়া সম্ভব না। দাওরায়ে হাদীসের যোগ্যতা দিয়ে যে সব জায়গায় কওমী আলেমরা খেদমত করতে পারে, তার একটি প্রাথমিক তালিকা ইতিপুর্বেই প্রকাশিত হয়েছে।

তরুন ফারেগীনরা সোচ্চার হোন। মনে রাখবেন এই ধরণের স্বীকৃতি কওমী মাদ্রাসার জন্য নয়, বরং সরকারের জন্যই গলার ফাঁস হবে ইনশাআল্লাহ। অচিরেই সারা দেশ থেকে কওমী তরুনরা সোচ্চার হলে এদেরকে সুযোগ না দেওয়ার কোন অধিকারই সরকারের থাকবে না।

অনেকেই অনেক কথা বলবে। কী হবে এই স্বীকৃতি দিয়ে? এই স্বীকৃতির কী মূল্য আছে? মূল্য অবশ্যই আছে। আমরাতো চাইতেই রাজি না। এছাড়া কওমী ফারেগীনরা দেশকে কোন কোন সেক্টরে সেবা দিতে পারে সেটাও পরিস্কার করতে পারিনি। সেটা পরিস্কার করার জন্যই আমাদের আন্দোলন চলছে।

স্বীকৃতি হয়েছে। এবার আসুন, অধিকার আদায়ে মাঠে-ময়দানে আইনী লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিই। বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের ওপরে চাপ তৈরী করি।

আমাদের মুরুব্বিদের ধন্যবাদ জানাই এজন্য যে, উনারা কওমী মাদ্রাসার স্বকীয়তা বজায় রেখে চলার শর্তে কওমী সনদের নিরঙ্কুশ স্বীকৃতি আদায় করতে পেরেছেন। এখন আমাদের কাজ হলো সরকারকে এ কথা বলা যে, এই কাগজ দিয়ে আমরা কী করতে পারি? আদালতের মাধ্যমে এটা পরিস্কার করতে হবে।

এই দেশ আমার, এই মাটি আমার। এখানে আমার আপনার সকলের অধিকার আছে। এদেশে কেউ সুযোগ পাবে আর কেউ কিছুই পাবে না, তা হতে পারে না। আমরা বড়দের কোন দোষ দিবো না। বড়রা আসল কাজ আদায় করে দিয়েছেন, এখন আমাদের অধিকার বুঝে নেওয়ার পালা। সরকারকে এই সনদ দেখিয়ে পিয়নগিরি করার সুযোগ হলেও দিতে হবে।

এই কর্মসংস্থান আদায়ের দাবীর সাথে বর্তমান মাদ্রাসা শিক্ষার ব্যবস্থাপনার কোন সম্পর্ক নেই। মাদ্রাসা ওয়ালারা মাদ্রাসা চালাবেন। আমাদের কাজ হলো সরকারকে চাপ সৃষ্টি করা। এ জন্য বড়দের সহযোগিতা লাগলেও মাদ্রাসার কোন ক্ষতি নেই।

লেখক : জেনারেল সেক্রেটারি, বাংলাদেশ ইন্টেলেকচুয়াল মুভমেন্ট বিআইএম

ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  

Comment

Share.