কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ

0
মুফতি এনায়েতুল্লাহ ::
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম- বাক্যটি সব ভালো কাজের শুরুতে মুসলমানরা কোরান-হাদিসের শিক্ষা অনুযায়ী ব্যবহার করে থাকেন। কোনো চুক্তিপত্র, দলিল-দস্তাবেজ, চিঠিপত্র- এমন সব বিষয়ের শুরুতে বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করা ইসলামি রীতি। কোরানে কারিমও সূচনা হয়েছে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ দ্বারা। বিসমিল্লাহ দিয়েই সব কাজ শুরু করতে হয়। হাদিসে এসেছে: যে কাজ বিসমিল্লাহ দ্বারা শুরু করা না হয়, তা কল্যাণহীন ও বরকতশূন্য থাকে। বিসমিল্লাহকে বলা হয় সব কাজের সূচনাধ্বনি। এর মাধ্যমে কাজের শুরুতে আল্লাহর আনুগত্য প্রকাশ করা হয়। এ বাক্য বলে কাজ শুরু করলে শয়তানের প্রবঞ্চনা থেকে মুক্ত থাকা যায় এবং সেই কাজে আল্লাহ অফুরন্ত বরকত দান করেন।
প্রত্যেক জাতির নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে। মুসলমানদের ঐতিহ্য হলো কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা। বিসমিল্লাহর গুরুত্ব ও বরকত অপরিসীম। তাই প্রত্যেক মুসলমান যে কোনো উত্তম কাজ বিসমিল্লাহ দ্বারা সূচনা করেন। পানাহারের সূচনায় বিসমিল্লাহ, কোথাও রওনা হলে বিসমিল্লাহ- এমন আরও অনেক ক্ষেত্রে তারা বিসমিল্লাহ বলে কাজের সূচনা করে থাকেন। অবশ্য কোনো অন্যায় ও ইসলামবহির্ভূত কাজের জন্য বিসমিল্লাহ বলা পাপ। ইসলামি জীবনবোধ, কর্মপদ্ধতি ও সার্বিক প্রেরণার উৎস হলো আল্লাহর নাম। বলা হয়, আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন যুগে নবী-রাসুলের কাছে যেসব কিতাব নাজিল করেছেন সেসব কিতাবের সংখ্যা প্রায় একশ চারটি। আগে নাজিল করা সব কিতাবের সারাংশ রয়েছে কোরানে কারিমে, আর পবিত্র কোরানের সার-নির্যাস রয়েছে সুরা ফাতেহার মধ্যে, আর সুরা ফাতেহার সার-নির্যাস রয়েছে বিসমিল্লাহর মধ্যে।
মানুষ হিসেবে আমরা যে যেখানেই দায়িত্ব পালন করি না কেন, নির্ধারিত সময়ে প্রত্যেককে আল্লাহ তায়ালার কাছে জবাবদিহি করতে হবে। এ উপলব্ধি মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করে। বর্তমান পৃথিবীতে সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম নির্যাতিত, অবহেলিত, বঞ্চিত ও বিপন্ন মানুষের ভরসার একটি জায়গা হয়ে উঠেছে। যাবতীয় সামাজিক শোষণ আর অবিচারের বিরুদ্ধে সংবাদপত্রের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সংবাদপত্র মানবসেবা ও শুভকাজ সম্পাদনের সমষ্টিগত প্রক্রিয়ার মাধ্যম। তাই আমরাও একটি শুভ কাজে পথচলা শুরু করছি আল্লাহর নির্দেশিত ও ইসলামি বিধানমতে সমর্থিত বাক্য বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম বলে।
লেখক: শিক্ষক ও কলামিস্ট
ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  

Comment

Share.