বইমেলায় আকর্ষণ : একগুচ্ছ মুসা আল হাফিজ

0

রাসেল মাহফুজ :: শুরু হচ্ছে একুশে বইমেলা-২০১৯। সারাদেশের বইপ্রেমীদের নজর এবার রাজধানীর দিকে। এবারের বইমেলায় বিশেষ আকর্ষণ ‘একগুচ্ছ মুসা আল হাফিজ’। গ্রেটার সিলেট সাহিত্য পদকপ্রাপ্ত, বিজয়ের সন্তান খ্যাত, কবি, দার্শনিক, গবেষক মুসা আল হাফিজ রচিত ছয়টি বই এবং তাঁর কবিতা ও চিন্তাধারা নিয়ে অন্যদের রচিত ও সম্পাদিত দু‘টি আলোচনাগ্রন্থ থাকছে এতে।

মুসা আল হাফিজ রচিত বইগুলো হচ্ছে ১. মৃত্যুর জন্মদিন। ২. শতািব্দীর চিঠি। ৩. মুক্তি আনন্দে আমিও হাসবো। ৪. ভাবনার বীজতলা। ৫. চার কবি: চিত্তের পাসওয়ার্ড। ৬. দৃশ্যকাব্যে ফররুখ আহমদ।

কবির সাহিত্য, চিন্তা ও দর্শন নিয়ে রচিত ও সম্পাদিত বই দুটি হচ্ছে শাবিপ্রবি’র প্রফেসর ডক্টর রিজাউল ইসলাম রচিত ‘মুসা আল হাফিজের মননবিশ্ব’ এবং কবি এম আসাদ চৌধুরী সম্পাদিত ‘মননের কবি, বৈদগ্ধের দৃষ্টিতে’।

‘মৃত্যুর জন্মদিন’ একটি কবিতার বই। কি আশ্চর্য হয়েছেন নাম দেখে? সত্যিই এ হচ্ছে হৃদয়ের রক্তবৃষ্টি। এ হচ্ছে অস্তিত্বের শানে নুযুল ,অস্তিত্বের তর্জমা, অস্তিত্বের তাফসির। মৃত্যুর জন্মদিন। কী আছে এখানে? এখানে আত্মার রক্তপাত। এখানে বাস্তবতার গলিত মগজ। এখানে পাখি ও নদীর রোদন। এখানে সময়ের শিরার আগুন লকলকিয়ে বিষ হয়ে ঝরে পড়ে নিরব নর্দমায়। এখানে একজন লোক প্রদীপ হাতে সারা দিন আলো খোঁজে দিনের আলোয়। শত শত ঘটনা ঘটে চলে এখানে। কাল হয়ে যায় একটি স্থিরচিত্র। পাগলা শতাব্দীকে বগলদাবা করে ইতিহাসের উজানে দৌড়াতে থাকে প্রতিটি শব্দ।

‘শতাব্দীর চিঠি’ পড়ে আপনার হৃদয় শুধু মুগ্ধতায় ভরে যাবে নয়, হৃদয় থেকে আগুনও ঝরবে, আগুন। জেগে ওঠার আগুন। ঘুরে দাঁড়াবার আগুন। একবিংশ শতাব্দীর মুসলিম তরুণসমাজের চেতনায় ঠোকা দিয়ে ফাগুন জাগাতে পারে বইটি। ‘শতাব্দীর চিঠি’ বইয়ের প্রিরিভিউ খ্যাতিমান গবেষক, প্রফেসর ড. মো. রিজাউল ইসলামের ভাষায়- ‘১৪৯২ সালে উন্দুলুসিয়ায় মুসলিম সভ্যতার যে কবর রচিত হয়, সে কবর বাংলাদেশে রচিত হয়েছিলো ১৪১০-১৪১৪ সালে। কবর কেন রচিত হয়? কীভাবে রচিত হয়? কী ছিলো এর মর্মমূলে? সে কবর থেকে উন্দুলুসিয়া জেগে উঠতে পারেনি, বাংলাদেশ পেরেছিলো। কেন পেরেছিলো? কীভাবে পেরেছিলো? কাদের মাধ্যমে পেরেছিলো? – এসব প্রসঙ্গ বাংলার মুসলিমের ইতিহাস ও জ্ঞানতত্ত্বে অনুপস্থিত। বাঙালি মুসলিমের বুদ্ধিবৃত্তিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞানের গোড়ায় থাকার কথা ছিলো যে ঐতিহ্যিক তত্ত্ব, সে তত্ত্ব তৈরী করে দিযেছিলো ১৪১০-১৪১৪ সালের বাংলাদেশ। সেই হারানো সত্যকে খোঁজে পেলাম দিব্যদৃষ্টিসম্পন্ন ঐতিহাসিক মুসা আল হাফিজের শতাব্দীর চিঠি গ্রন্থে।

লেখক একটি বইয়ে চলমান বুদ্ধিবৃত্তিক আবহাওয়ার বিপরিতে একটি প্রতিচিন্তা, প্রতিতত্ত্ব, প্রতিইতিহাস ও প্রতিমূল্যবোধ উপস্থাপন করেছেন। যেখান থেকে পথ পেতে পারে বাংলাদেশ, বাঙালি মুসলমান।’

‘মুক্তি আনন্দে আমিও হাসবো’ বইটি সম্পর্কে কবি মুসা আল হাফিজ বলেন, আমার প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটেছিলো এই হাসির শব্দে। হাসির শব্দে ছিলো রোদন; মানবতার। এ ছিলো এক স্নিগ্ধআগুন, সবুজ বিদ্রোহ, প্রশান্ত তুফান। আনন্দের ভাষায় হাহাকার ছিলো, ছিলো ভালোবাসার বৃষ্টিপাত। পাঠক সেই বৃষ্টিকে অভিনন্দিত করেছিলেন আর উদযাপন করেছিলেন তার বর্ষণ ও সিক্ততাকে। কারণ, তাদের ভাষায় ‘এই বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটায় ছিলো বিশ্বাসের সুগন্ধি আর সত্যের লাল বারুদ’। ষোলটি বছর হলো, বইটি বাজারে নেই। বহুজন বহুবার বইটির প্রতি জানিয়েছেন আগ্রহের কথা। বইটি বাজারে আসুক, কবে আসবে? দেখি, দেখি করে অনেক সময় গেলো। আলহামদুলিল্লাহ! বইটি এসেছে উনিশের বইমেলায়। কবির সাথে আমরাও হাসবো। আমাদের সাথে হাসবে প্রকৃতি। হাসবে উদার আকাশ আর নির্মল বাতাস। মাটি, পাহাড়, গাছগাছালি, পাখপাখালিও বাদ যাবে না। সকলেই হাসবে, একসাথে হাসবে। কবির নেতৃত্বে অংশগ্রহণ করবে মুক্তির মিছিলে।

‘ভাবনার বীজতলা’ পড়ে আপনিও ভাবনায় পড়ে যাবেন নিশ্চয়। ভাবের সাগরে হাবুডুবু খাওয়ার আগে জানুন লেখকের ভাষায় বইটির পরিচিতি- “কত চিন্তার অক্সিজেন নিয়ে আমাদের জীবন। আমরা বাঁচি চিন্তাকে সঙ্গী করেই। একশ্রেণীর জ্ঞানী কথাটা এভাবে বলেন না। তাঁরা বলেন, ‘চিন্তা করি, তাই আমি আছি, তাই আমি জীবিত।’ তাঁদের কাছে চিন্তা জীবন, চিন্তাই প্রাণ। আসলে আমরা কোনো না কোনোভাবে চিন্তার রাজ্যের নাগরিক। প্রত্যেকেই জীবনকে যাপন করি যার যার মতো করে চিন্তাপ্রদীপ জ্বালিয়ে। কিংবা অন্য কারও চিন্তার আলোতে। প্রত্যেকেই নানাভাবে চিন্তাকে খাই, পান করি, পরিধান করি এবং চিন্তাও আমাদের খায়, পান করে, পরিধান করে। তাকে বাদ দিলে জীবন আমাদের বাদ দিয়ে দেয়। তাকে উপেক্ষা করলে নিজেরাই নিজেদের উপেক্ষা করতে থাকি। আমাদের তাই চিন্তার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আমি যে-সব চিন্তার মধ্য দিয়ে চলি, বলি, জিতি ও হারি, সেগুলোকে ধরতে পারলাম কই? এই যে ভাবনার বীজতলা নামে বই, এখানে কি ধরা পড়া ভাবনার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে? আসলে এ বই কয়েকটি দীর্ঘ রচনার সমাহার। বিভিন্ন সেমিনারে মূল প্রবন্ধ হিসেবে এগুলো রচিত ও পঠিত হয়।

এখানে আত্মদর্শন, সমাজ, রাজনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, নগরউন্নয়ন ও বিবিধ জ্বলন্ত ইস্যু নিয়ে চিন্তার চারা ছিটানো হয়েছে।” ‘চার কবি : চিত্তের পাসওয়ার্ড’ কবিতার আলোচনাগ্রন্থ। আলোচিত হয়েছেন বাংলা কবিতার অনবদ্য চার জমিদার। ১. সৈয়দ আলী আহসান ২. ফজল শাহাবুদ্দীন ৩. আফজাল চৌধুরী ৪. আবদুল মান্নান সৈয়দ।

বইটি সম্পর্কে কবি লিখেন- ঐতিহ্যের এই চার সৃজনপুরুষের মনোলোকের চাবি অনুসন্ধান করেছি। তালাশ করেছি তাদের চিত্তের চারিত্র। এদেশের মিডিয়া, বুদ্ধিজীবী ও সাহিত্যসমালোচকরা দল বেঁধে নিলামে তুলছেন যার যার বিবেক। যা বিক্রি হচ্ছে খুব সস্তাদরে। ফলে দলবাজির তামা হয়ে যাচ্ছে সোনা, নির্জন সোনা হয়ে যাচ্ছে পাথর। কী কেরামতি! এ পরিস্থিতির ফলেই উপেক্ষিত কবিতার এই সব জমিদার। এতে ক্ষতি হচ্ছে বাংলা সাহিত্যের, কবিতার। বইটিতে চার কবির শিল্প ও কাব্যকলা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

‘দৃশ্যকাব্যে ফররুখ আহমদ’। সাড়াজাগানো একটি বই। ইসলামী রেনেসার কবি ফররুখ। তার বিশাল কবিসত্তাকে আড়াল করে রাখা হয়েছে বিভ্রান্তির আবর্জনায়। উপেক্ষা ও অবিচারের অন্ধকারে ঢেকে আছে কবির আশ্চর্য সৃষ্টিশীলতা। গোটা বাংলা সাহিত্যের প্রেক্ষাপটে তাঁর অবদানের মূল্যায়ন না করে কৃত্রিম অভিধা দিয়ে যুগস্রষ্টা এই কবিকে প্রত্যাখান করা হচ্ছে। কিন্তু কবিতা ও প্রকৃত সৃজনশীলতার পরাজয় নেই। এটা আরেকবার প্রমাণিত হল। ফররুখ আহমদের কবিতার যথাযথ মূল্যায়নে এগিয়ে এসেছেন আরেক শক্তিমান কবি, সাহিত্য সমালোচক, গবেষক মুসা আল হাফিজ। এবারের বইমেলায় এসেছে তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ ‘দৃশ্যকাব্যে ফররুখ আহমদ’র দ্বিতীয় সংস্করণ। সাহিত্যকর্মীরা মনে করেন ‘কবি ও কবিতার শিল্পবিচারে নান্দনিক এই গ্রন্থটি বাংলাভাষার সাহিত্য সমালোচনায় এক সমৃদ্ধ সংযোজন’।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. রিজাউল ইসলামের গবেষণাগ্রন্থ ‘মুসা আল হাফিজের মননবিশ্ব’। আল হাফিজের মননবিশ্বে অনেকেই চক্কর দেন। চক্কর দেন শাবিপ্রবি’র বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. মো: আশ্রাফুল করিমও। তিনি লিখেন- ‘মুসা আল হাফিজের মননবিশ্ব’ ড. মো. রিজাউল ইসলামের ঘোরলাগা ও ঘোর লাগানো একটি বই। একটি মন আর মনের মধ্যকার একটি বিশ্ব সেখানে অঙ্কিত। সেই বিশ্ব আমাদের চেনা বিশ্ব নয়, বদলে যাওয়া ও রূপান্তরিত এক জগত। এ জগতে আছে আশ্চর্য দৃশ্যাবলী। রিজাউল ইসলাম এর নাম দিয়েছেন ‘রহস্যরাজ্য’।

বইটি প্রকাশের পরেই শেষ হয়ে যায়। দেশ-বিদেশে বোদ্ধামহলে সাড়া জাগানো এ বইয়ের দ্বিতীয় সংস্করণ এসেছে এবারের বইমেলায়। এটি সাহিত্য সমালোচনা ও কাব্য বিশ্লেষণে বিপুল প্রশংসিত একটি বই। এম আসাদ চৌধুরী সম্পাদিত ‘মনননের কবি বৈদগ্ধের দৃষ্টিতে’ একটি চমকজাগানো বই। কবি মুসা আল হাফিজের কবিতা ও চিন্তাধারা নিয়ে বিশজন ডক্টরের রচনা ও বিশ্লেষণের সমাহার এ বই। যারা সাহিত্যের গভীরে বিচরণ করতে চান, তাদের জন্য বইটি এক অভিনব উপহার।

আল হাফিজের বইগুলো প্রকাশ করেছে জ্ঞান-গবেষণার বিশ্বস্ত বাহক- ‘ফোয়ারা’। পাওয়া যাবে বইমেলায়- ৫৩৫-৫৩৬ নাম্বার স্টলে।

বাংলাবাজারে পেতে হলে- ইসলামি টাওয়ার ২য় তলা, দোকান নং ৩৯-৪০, অর্ডার – ০১৭৫০ ৫৬৩০৫০। যাত্রাবাড়ী পেতে হলে- কিতাব মার্কেট, দোকান নং ২৬,২৭,২৮ মাদরাসা রোড, ৩১২ দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী, ঢাকা, অর্ডার ০১৮৫১১৬৭৭০২। মাদানিনগর পেতে হলে -আহসান মনজিল মাদরাসা রোড, মাদানিনগর, অর্ডার, ০১৯৫৫২৪৯২৬৬

মুসা আল হাফিজের ‘সাহিত্যরাজ্য’ এতো বিশাল, যা প্রদক্ষিণ করে শেষ করা যাবে না। আমার মতো পুঁচকের দ্বারা তো কল্পনাও করা যায় না।

তবে আল হাফিজের সাহিত্যের ছাত্র হতে পেরে আমি গর্বিত। যার কবিতা সম্পর্কে এই সময়ের জাতীয় কবি আল মাহমুদ বলেন— স্বপ্নের ভেতর দিয়ে যে জীবন দেখা যায়, তার নাম কবিতা। কল্পনায় তৈরী হয় কবিতার জগত। কিন্তু সে জগতে বাস্তব জীবনের শব্দ ও দৃশ্যাবলী চিত্ররূপময় হয়ে উঠে। স্বপ্ন ও বাস্তবতার এই জড়াজড়িতে কবির মস্তিস্কে তৈরি হয় প্রেমরাজ্য। এ কারণে আমি বলি, কবি মাত্রই প্রেমিক। যে স্বপ্ন দেখে না, সে প্রেমিক নয়। কিন্তু প্রত্যেকমানুষ যেহেতু স্বপ্নচারী, অতএব প্রত্যেকেই কবি। আর মানুষ যেহেতু প্রেমিকনা হয়ে পারে না,অতএব প্রত্যেকমানুষ কবি। কিন্তু অসাধারণ কবি থাকেন খুবই কম।

একটি জাতির হাজার বছরের পূণ্যে একজন অসাধারণ কবি জন্ম নেন। আমি দীর্ঘ দিন ধরে অসাধারণ কোনো কবিতার গন্ধ শুঁকতে উন্মুখ হয়ে আছি। বাংলা কবিতার শরীর হাতড়াচ্ছি অসাধারণ সৃষ্টিবেদনার লক্ষণের আশায়। এ সময় যাদের কলমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত কবিতার বীর্য রয়েছে, তাদের মধ্যে শক্তিমান এক কবি মুসা আল হাফিজ। মুসা আল হাফিজ যে শক্তিমান, তার স্বাক্ষ্য ঈভের হ্রদের মাছ কাব্যে রয়েছে। সত্যিকার কবি হৃদয় নিয়ে তিনি এ গ্রন্থে আবির্ভূত হয়েছেন। আমি এতে প্রকৃত কবিতার এই আকালে তার প্রতি বড় আশার দৃষ্টিতে চেয়ে আছি।

কারণ মানুষ ও মানুষের পৃথিবীর জন্য সবচে’ জরুরী যে বিশ্বাস, সেই বিশ্বাসের স্বচ্ছল আনন্দে অবগাহন করে বিদ্যুচ্ছমকের মতো উজ্জ্বল দৃশ্য ও বাক্য নির্মাণে মুসা আল হাফিজ পারঙ্গম। তার শব্দ ও বিষয়সচেতনতা উচ্চমানের। গভীর আধ্যাত্মিকতার রহস্য তৈরিতে তার প্রচেষ্টা নিয়োজিত হয়েছে। আমি এতে বৈদগ্ধ ও শিল্পসাফল্যের চিহ্ন লক্ষ করেছি। ডান-বাম মিলিয়ে এই প্রজন্মের তরুণ কবিদের মধ্যে মুসা আল হাফিজের কবিতায় সবচে সবলভাবে প্রাণের স্পন্দন শুনা যায়। তার দেখার তৃতীয় চোখ অন্তর্ভেদী বলেই মনে হলো। তিনি দেখেছেন ‘বাতাসের ঢেউয়ে ভাসে পর্বতের পাঁজরের গুঁড়া’ ‘প্রকৃতির গলিত পুঁজে ভরে যাচ্ছে ইথারের ঝিল।’ তাঁর সাহসী উচ্চারণ ‘মৃত্যুর বুকে আমি পা রাখলেই পৃথিবীর বিজয় উৎসব’।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  

Comment

Share.