নতুন শিক্ষাব্যবস্থার প্রবর্তক ও জাতির দরদি অভিভাবক ‘মাওলানা মুহাম্মাদ সালমান’

0

মুফতি এনায়েতুল্লাহ ।।

স্মারকগ্রন্থ প্রকাশের রেওয়াজ আমাদের সমাজে এবং সাহিত্যে স্থান করে নিয়েছে। তবে আলেম সমাজে আনুষ্ঠানিকভাবে স্মারকগ্রন্থের উদ্যোগ, আয়োজন ও প্রকাশ করে নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন- মাওলানা মুহাম্মাদ সালমান।

এখন থেকে ২১ বছর আগে ১৯৯৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মাওলানা সালমানের ব্যবস্থাপনায় ও মাওলানা লিয়াকত আলীর সম্পাদনায় ‘আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী রহ. স্মারকগ্রন্থ’ প্রকাশিত হয়। ১৯৬৯ সালের ২১ জানুয়ারি মোজাহেদে আজম আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী (রহ.) ইন্তেকাল করেন। তিনি বাংলাদেশে ছদর সাহেব হুজুর নামে সমধিক পরিচিত। ছদর সাহেবের ইন্তেকালের ৩০ বছর সাত মাস পর স্মারক প্রকাশের উদ্যোগ অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার দাবি রাখে। এটা মাওলানা সালমানের অনন্য এক কীর্তিও বটে।

মাওলানা সালমান ছদর সাহেবকে দেখেননি, তাঁর আত্মীয়ও নন। ছদর সাহেব হুজুরের ইন্তেকালের কয়েক মাস পর কলেজ ছেড়ে গওহরডাঙ্গা মাদরাসায় ভর্তি হন। গওহরডাঙ্গায় পড়াশোনার সময় তিনি সদর সাহেবের লেখালেখি দ্বারা ভীষণভাবে প্রভাবিত ও উদ্দীপ্ত হন। পরবর্তী সময়ে মাওলানা সালমানের কর্মমুখর জীবনে এর প্রভাব দেখে গেছে।

আমাদের জ্ঞানী-গুণীজনদের অনেকের নাম বিস্মৃতপ্রায়। অথচ জ্যোতির্ময় এসব ব্যক্তিত্বের জীবন থেকে রয়েছে শিক্ষণীয় অনেক কিছু। সেই শিক্ষাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে তাদের সম্পর্কে জানার কোনো বিকল্প নেই। আর এ লক্ষে তাদের জীবনালোচনা স্মারকগ্রন্থের মাধ্যমে প্রকাশের যে ধারা মাওলানা সালমান সূচনা করেছেন, সেটা এখনও চলমান।

তার ব্যবস্থাপনায় ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে-‘মুফাক্কিরে ইসলাম সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ. স্মারকগ্রন্থ’, ‘মাওলানা আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী রহ. স্মারকগ্রন্থ’, ‘কাজী মুজাহিদুল ইসলাম কাসেমী রহ. স্মারকগ্রন্থ’। এছাড়া বিভিন্ন মনীষীর জীবনীর ওপর বই রচিত হয়েছে তাঁর তত্ত্বাবধানে। এ ধরনের আরও বেশ কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে।

মুফাক্কিরে ইসলাম সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.)-এর সুযোগ্য খলিফা, সমন্বিত শিক্ষা সিলেবাসের স্বপ্নদ্রষ্টা, মাদরাসা দারুর রাশাদের প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহাম্মাদ সালমানের জন্ম ১৯৫০ সালে সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ থানাধীন নলতা গ্রামে।

সাধারণ ধারার শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষাজীবন শুরু করে ১৯৬৮ সালে তিনি এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। ১৯৬৯ সালে আই.কম পড়াকালে ইলমে দীন হাসিলের জন্য ভর্তি হন গওহরডাঙ্গা মাদরাসায়। পরে ঢাকার লালবাগ মাদরাসা হয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান ভারত। ১৯৭৮ সালে ভারতের সাহারানপুর জেলার গঙ্গুহ মাদরাসায় এক বছর পড়ালেখা করেন। পরে দারুল উলুম দেওবন্দে মেশকাত ও ১৯৮০ সালে দাওরায়ে হাদিস সমাপ্ত করেন। মাওলানা সালমান দারুল উলুম দেওবন্দে যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিসদের কাছে হাদিসসহ অন্যান্য বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন।

গঙ্গুহ মাদরাসায় পড়ার সময় তিনি সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.)-এর সঙ্গে ইসলাহি সম্পর্ক গড়েন। দীর্ঘ মেহনত ও মোজাহাদার মাধ্যমে মাওলানা সালমান সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভীর খেলাফত লাভ করেন। বাংলাদেশে সাইয়েদ নদভীর চিন্তাধারার বিকাশ ও বিস্তার ঘটানোর পেছনে মাওলানা সালমানের রয়েছে বিশেষ ভূমিকা।

যুগোপযুগী ইসলামি শিক্ষার বিস্তারে মাওলানা মুহাম্মাদ সালমানের অবদান অপরিসীম। তিনি একাধারে একজন সৃজনশীল লেখক, অনুবাদক, সাহিত্যিক, গবেষক, দাঈ, শিক্ষাবিদ, সংগঠক, প্রতিষ্ঠান পরিচালক, আধ্যাত্মিক রাহবার এবং দীনি দাওয়াত ও তাবলিগের অনন্য পথিকৃৎ। নতুন প্রজন্মের ঠিকানা ও অভিভাবক।

১৯৮০ সালে খুলনার খালিশপুরে অবস্থিত দারুল মোকাররম মাদরাসায় শিক্ষকতায় যোগদানের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবনের শুরু। পরে দৌলতপুরের যাকারিয়া সেনহাটি মাদরাসা ও মিরপুরের আরজাবাদ মাদরাসা হয়ে ১৯৮৫ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠা করেন- দারুর রাশাদ মাদরাসা।
দারুর রাশাদ একটি ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সাধারণ ধারায় শিক্ষিতদের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি কোর্স সম্বলিত এক নতুন সিলেবাস তিনি প্রণয়ন করেন। যে সিলেবাসে আধুনিক শিক্ষা ও মাদরাসা শিক্ষার সমন্বয় রয়েছে।

পাঁচ বছর মেয়াদি কোর্সের চূড়ান্ত পর্ব দাওরায়ে হাদিস চালু হয় ১৯৮৯ সালে। শুরু থেকেই এই মাদরাসার শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের অধীনে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতিত্বের সাক্ষর রাখছে। বাংলাদেশের কওমি শিক্ষাব্যবস্থায় দারুর রাশাদ অনন্য ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে দারুর রাশাদকে কেন্দ্র করে দীনের প্রচার-প্রসারে বহুমুখী কাজের সূচনা হয়েছে। যা সমাজ উন্নয়নে, কওমি শিক্ষাকে উঁচুতে নিতে, আলেমদের মর্যাদা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

মাওলানা সালমান পাকিস্তানের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান জামিয়াতুর রশিদের আদলে ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘জামিয়াতুর রাশাদ আল ইসলামিয়া।’ যেখান থেকে শিক্ষার্থীরা একইসঙ্গে দাওরায়ে হাদিস ও সরকারি সিলেবাসে অনার্স শেষ করার সুযোগ পাচ্ছে। এই সিলেবাসের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে দাওরায়ে হাদিস শেষ করে অনার্স করছে।

দারুর রাশাদে তিনি শর্ট সিলেবাসে নৈশকোর্সও চালু করেছেন। এক যুগের বেশি সময় ধরে এই কোর্স চলছে। সংক্ষিপ্ত অথচ মানসম্পন্ন সিলেবাসে এই বিভাগে অনেক ব্যাংকার, অধ্যাপক, লেখক, ব্যবসায়ী ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী পড়ালেখা করছেন, দীন শিখছেন।

মিডিয়ায় ভূমিকা রাখা, বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সম-সাময়িক বিষয়ে উদ্ভুত নানা জটিলতা নিরসনসহ লেখালেখির ময়দানে ইসলামকে উপস্থাপনের জন্য মোজাহেদে আজম আল্লামা ফরিদপুরী (রহ.)-এর চিন্তার আলোকে যুগ সচেতন কলম সৈনিক গড়ে তোলার লক্ষ্যে দারুর রাশাদে তিনি ১৯৯৮ সাল থেকে ‘সাহিত্য ও সাংবাদিকতা কোর্স’ চালু করেন।

এই কোর্স আলেম-উলামাদের গণমাধ্যমমুখী করতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। এই সময়ে দৈনিক পত্রিকাসহ বিভিন্ন অনলাইনে কাজ করা আলেমদের সিংহভাগ দারুর রাশাদের ছাত্র। কয়েকটি উদাহরণ দিচ্ছি- জহির উদ্দিন বাবর, মুহাম্মদ ফয়জুল্লাহ, আলী হাসান তৈয়ব, রায়হান মুহাম্মদ ইবরাহিম, আতাউর রহমান খসরু, রোকন রাইয়ান, গাজী মুহাম্মদ সানাউল্লাহ, হাসনাইন হাফিজ, ইলিয়াস জাবের, এমদাদুল হক তাসনিম, মিযানুর রহমান জামিল, আবুল কালাম আনছারী, আবদুল্লাহ আশরাফ এ ধরনের অসংখ্য লেখক উঠে এসেছে দারুর রাশাদের সাহিত্য-সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে।

যারা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে দারুণ কর্মদক্ষতার পরিচয় দিয়ে সমাজকে আলোকিত করছেন। এ ছাড়া অনুবাদ, মৌলিক রচনা ও সম্পাদনার ক্ষেত্রেও দারুর রাশাদ থেকে পাস করা ছাত্রদের বিশাল ভূমিকা রয়েছে।

এক কথায়, দারুর রাশাদের সাহিত্য ও সাংবাদিকতা কোর্সের মাধ্যমে বাংলাদেশে মাওলানা সালমান তার শিষ্য-শাগরিদের এক বিশাল বাহিনী গড়ে তুলেছেন, যারা বাংলাদেশে সাহিত্য-সাংবাদিকতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। এটা নিশ্চিতভাবেই বলা চলে, মাওলানা সালমানের উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

মাওলানা সালমান ইসলামকে বিশ্ববাসীর সামনে ইতিবাচক উপায়ে উপস্থাপন করার লক্ষে ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন, ‘সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ. এডুকেশন সেন্টার।’ এই কোর্সে শিক্ষার্থীদের ইসলামি রাষ্ট্র, সমাজ, বিজ্ঞান ও অর্থব্যবস্থা এবং চলমান বিশ্ব পরিস্থিতির ও ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। শেখানো হয় গবেষণা ও অনুসন্ধান পদ্ধতি।

ফারেগ ও পাস করে যাওয়া কওমি মাদরাসার প্রাক্তন ছাত্রদের নিজ নিজ মাদরাসা সেভাবে খোঁজ-খবর রাখে না। তাদের একত্রে হওয়ার উপলক্ষ্যও খুব কম। কিন্তু দারুর রাশাদ এর ব্যতিক্রম। এখান থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করে দেশ ও জাতির সেবায় আত্মনিয়োগ করা আলেমদের ঐক্যবদ্ধ করতে ‘আর রাশাদ ফোরাম’ গঠন করা হয় ২০০৩ সালে। এটাও মাওলানা সালমানের কৃতিত্ব। এই ফোরামের সদস্যরা দেশের আনাচে-কানাচে দারুর রাশাদের চেতনা ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে।

মৌলিক ও অনুবাদ মিলিয়ে চল্লিশের অধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। আকাবিরের জীবনী ও জাগরণমূলক লেখা তার প্রধান বিষয়। তার রচিত বইয়ের কয়েকটি হলো- প্রাচীন প্রদীপ, ঢাকা থেকে বালাকোট, কোরবানীর ইতিহাস, তাকমীলুল ঈমান (অনুবাদ), মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী রহ. জীবন ও কর্ম, মাওলানা আবদুল আজিজ রহ. জীবন ও কর্ম, হজরতজি ইউসুফ রহ. জীবন ও কর্ম সাধনা, কুড়ানো রতন ইত্যাদি। এছাড়া তার সম্পাদনা, তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনায় অর্ধশত বই প্রকাশিত হয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক সাহিত্য সংগঠন রাবেতা আদবে ইসলামীর ঢাকা ব্যুরো প্রধানের দায়িত্বও পালন করছেন।

ইসলামের প্রচার, সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে অংশগ্রহণ, অভিজ্ঞতা অর্জনসহ নানা উপলক্ষে তিনি বিশ্বের অনেকগুলো দেশ ভ্রমণ করেছেন। ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও আমেরিকাসহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ তিনি সফর করেছেন।

অমুসলিমদের মাঝে ইসলামের দাওয়াত, বিভিন্ন দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে জাতীয় বিভিন্ন বিষয়েও মাওলানা সালমানকে পাওয়া যায়। অনেকে বলেন, কোথাও দীনের কাজ হচ্ছে, কওমি শিক্ষা নিয়ে কাজ হচ্ছে, কওমি সিলেবাসের বিষয়ে বৈঠক হচ্ছে, আলেমদের ঐক্যচিন্তা নিয়ে মতবিনিময় হচ্ছে- এক কথায়া আলেমদের গঠনমূলক কিংবা সৃষ্টিশীল কোনো কিছু হবে আর মাওলানা সালমান সেখানে থাকবেন না, এটা প্রায় অসম্ভব।

ছয় সন্তানের জনক (২ ছেলে, ৫ মেয়ে, এক মেয়ে ইন্তেকাল করেছেন) মাওলানা সালমান কাজ করছেন। শুধু স্বপ্ন আর পরিকল্পনার মধ্যে তিনি সীমাবদ্ধ থাকেননি। কাজের ক্ষেত্রে সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন। তার স্বপ্ন কওমি মাদরাসার জন্য একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস। যে সিলেবাসে চলমান বিষয়গুলোর সঙ্গে ইতিহাস, ভূগোল, সীরাতসহ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সমন্বয় করা হবে।

মাওলানা সালমানের চাওয়া, শিক্ষার্থীদের দাওরা ফারেগের পর আলাদা আলাদা বিষয়ে ডিপ্লোমা করার সুযোগ দেওয়া। এখন যেভাবে ইফতা পড়ে, সেভাবে অর্থনীতি, পৌরনীতি, সমাজনীতি, সাহিত্য-সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আগ্রহীরা পড়াশোনা করবে।

নানা প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে তিনি পথ চলছেন। অসীম ধৈর্য আর আপন দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে তিনি অবিচল। প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম পালনে তিনি বেশ কঠোর। এ জন্য অনেকে তার সমালোচনা করে থাকেন। তবুও তার ক্লান্তি নেই, বিশ্রাম নেই।

জ্ঞানী ও গুণীদের তিনি সম্মান করেন, কদর করেন। সদালাপী ও সদা হাস্যোজ্জ্বল এ ব্যক্তিকে সহজে অন্যদের থেকে আলাদা করা যায়। অল্প সময়ের মধ্যে মানুষকে আপনজনে পরিণত করার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। এসব গুণ অন্যদের থেকে তাঁকে আলাদা ব্যক্তিসত্তায় পরিচিত করেছে। ব্যক্তিগত আলাপচারিতাতে মানবতার প্রতি তাঁর দরদ ও ভালোবাসা বিষয় উঠে আসে। এর দ্বারা বোঝা যায়, সদা তিনি উম্মাহর চিন্তায় মশগুল থাকেন।

নিজের আচার-আচরণে তিনি এতটা বিনয়ী যে, ছোটদের সঙ্গেও এমন ব্যবহার করেন; মনে হয় তাদের থেকে নতুন কিছু শিখছেন বা জানছেন। নানা সময়ে দেখা-সাক্ষাতে খুব কাছে থেকে দেখেছি, তিনি সব সময় নবীন লেখকদের প্রতিভা বিকাশে উৎসাহ দেন। যার মধ্যে যে যোগ্যতা দেখেন, সে অনুযায়ী প্রশংসা ও পরামর্শ দিয়ে তাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দেন। তার স্বপ্ন ‘সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা। এ লক্ষে তিনি কাজ শুরু করেছেন।

শুরুতেই বলেছি এখন থেকে প্রায় ২১ বছর আগে মাওলানা সালমান অনুভব করেছেন স্মারকগ্রন্থ রচনার। তার দেখানো পথে পরবর্তী সময়ে ইন্তেকাল করা মনীষীদের নিয়ে চর্চা হচ্ছে। এখনকার সময়ের অনেকেই উপলব্ধি করছেন, বিষয়টি শুধু প্রয়োজন নয়; অপরিহার্যও বটে। এই অগ্রসর চিন্তাটাই মাওলানা সালমানের অন্তর্দৃষ্টি। যেটা তিনি সদর সাহেব হুজুর এবং আলী মিয়া নদভীদের ভালোবাসার মাধ্যমে অর্জন করেছেন।

তদ্রুপ মৃদু সমালোচান সত্ত্বেও কওমি শিক্ষাধারায় শর্টকোর্স, দুই ধারার সমন্বিত সিলেবাস প্রণয়ণে জাতি লাভবান হয়েছে। অনেক জেনারেল শিক্ষিত পরিণত বয়সে এসে দীন শেখার সুযোগ পেয়েছেন, আলেম হয়েছেন। আখেরে সমাজ উপকৃত হয়েছে।

আমাদের বিশ্বাস, পূর্বসূরি মনীষীদের চিন্তার ফেরিওয়ালা মাওলানা সালমানের কর্ম ও চিন্তা সঙ্গে পরিচয়ের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্ম ভবিষ্যৎ পথের দিশা খুঁজে পাবে। কাজ করলে সফলতা আসে, মনে এ বিশ্বাস জন্ম নেবে। দোয়া করি, মাওলানা মুহাম্মাদ সালমানের ছায়া আমাদের ওপর আরও দীর্ঘ হোক। তার স্বপ্ন ও পরিকল্পনাগুলো আলোর মুখ দেখুক। আমিন।

Comment

Share.