হেফাজতে ইসলাম বিলুপ্ত করে দেয়া হোক!

0

মনসুরুল আলম মনসুর ।।

ফেসবুকে যেন হেফাজতের নির্বাচন চলছে। অনেকেই নিজের পছন্দের বুযুর্গের নাম আমীর হিসেবে প্রস্তাব করছেন, এবং তার অনুসারীরা আমীন আমীন কমেন্ট করে সমর্থন জানাচ্ছেন।

এরকম আমীন ভোট পাওয়া আমীরের সংখ্যা ইতিমধ্যে হাফ ডজন হয়ে গেছে। সময় যত গড়াবে আমীরের সংখ্যা ততই বাড়বে বলেই মনে হচ্ছে।

ইসলামী ঐক্যজোট কোন রাজনৈতিক দল ছিল না। একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে, বিশেষ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে কয়েকটি ইসলামী দলের সমন্বয়ে ‘ইসলামী ঐক্যজোট’ নামে একটি জোট বা এলায়েন্স গঠিত হয়েছিল।

সময়ের ব্যবধানে সেই ঐক্যজোট আণ্ডাবাচ্চাসহ এখন পাঁচ অংশের পরিবার। ইসলামী ঐক্যজোটকে রাজনৈতিক দল বানিয়ে ৫ খণ্ডে বিভক্ত করা হয়েছে। পাঁচজন সভাপতি/পাঁচজন মহাসচিব মিলিয়ে মোট দশজন নেতা হয়েছেন। কিন্তু খোলস ছাড়া ভেতরে কিছুই অবশিষ্ট নেই। কোনমতে শুধু নামটা বেঁচে আছে।

শাহবাগের নাস্তিক-মুরতাদ বিরোধী আন্দোলনের যে প্রেক্ষাপটে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ময়দানে আবির্ভূত হয়েছিল, আলহামদুলিল্লাহ! হেফাজত ইসলাম সেই ইস্যুতে শতভাগ সফলতা দেখিয়েছে। এদিকে আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. যেহেতু ইন্তেকাল করেছেন এবং পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে টানপোড়ন দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে উত্তম হবে, ঘোষণা দিয়ে হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্তি করে দেয়া।

এতে অন্তত জৌলুশ নিয়ে হেফাজতে ইসলাম ইতিহাসের পাতায় চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। স্মরণীয় হয়ে থাকবেন হেফাজতের আন্দোলনে এসে শাহাদাতপ্রাপ্ত শহীদেরা এবং পঙ্গুত্ববরণকারী আহতরা।

নতুবা অবস্থাদৃষ্টে যা মনে হচ্ছে- সময়ের ব্যবধানে ইসলামী ঐক্যজোটের মতো হেফাজতে ইসলাম ৫ খণ্ডে বিভক্ত হবে, হেফাজতের আমীর/মহাসচিব পরিচয় দিয়ে অল্পকিছু মানুষের রুটি-রুজির ব্যবস্থা হবে, কিন্তু চিরতরে হারিয়ে যাবে হেফাজতে ইসলামের কৃতিত্ব ও গৌরবগাঁথা।

লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস

Comment

Share.